নয়াদিল্লি : সার্বিক ভাবেই আত্মনির্ভর। চিনকে হঠিয়ে রাখির বাজার দখল করল ভারত। ২০২০ সালের রাখি এবার আক্ষরিক অর্থেই উৎসব ভারতের কাছে। রাখির বাজার দখল করায় চিনের বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে খবর। ক্ষতির পরিমাণ চার হাজার কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা এর ফলে চিনা পণ্য বয়কট করার পথে জোরালো পদক্ষেপ নিল ভারত। জুন মাসের ১০ তারিখে কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডারস বা সিএআইটি ভারতীয় রাখি বা দেশী রাখি তৈরি করার ডাক দেয়। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে দেশীয় সংস্থাগুলি ভারতীয় রাখি তৈরি করতে জোর দেয়। সিএআইটির উদ্যোগে প্রায় ১ কোটি রাখি তৈরি হয় দেশের বিভিন্ন রাজ্যে।

বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থা, বাড়ির মহিলারা ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে এই রাখি তৈরি করা হয়। ফলে এবার রাখির বাজার দখল করেছে ভারতে তৈরি রাখি, যা প্রস্তুত করা হয়েছে ভারতীয় পণ্য দিয়ে। এই বছর একটিও রাখি চিন থেকে রফতানি করা হয়নি বলে খবর।

সিএআইটির জাতীয় সভাপতি বি সি ভারতীয় ও জাতীয় সম্পাদক প্রবীণ খান্ডেলওয়াল জানান প্রতি বছর ৫০ কোটি রাখি বিক্রি হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে চার হাজার কোটি টাকার রাখি বিক্রি হত, যা চিনের তৈরি। এর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ভারতীয় বলেন চিনা পণ্য যেভাবেই হোক ভারত থেকে সরাতে হবে।

৯ই অগাষ্ট থেকে এই লক্ষ্যেই শুরু হচ্ছে চিনা পণ্য ভারত ছাড়ো ক্যাম্পেন। সারা দেশ জুড়ে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই দিন বিভিন্ন রাজ্যের ৮০০টি জায়গায় জমায়েত করবেন বিক্রেতারা। এর আগেও সিএআইটি জানিয়ে ছিল মেড ইন চায়না খেলনা, পোশাক, কাপড়, নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, রান্নাঘরে ব্যবহৃত সামগ্রী, জুতো, হ্যান্ড ব্যাগ সুটকেস, বৈদ্যুতিন পণ্য, প্রসাধন সামগ্রী, গাড়ির যন্ত্রাংশ, ঘড়ি স্টেশনারি এবং নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী ইত্যাদি বয়কট করতে হবে।

তবে যেসব চিনা পণ্য বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি সেগুলিকে বয়কটের তালিকায় রাখা হয়নি।‌ সে ক্ষেত্রে যতদিন পর্যন্ত ওই সব পণ্য নিজেরা উৎপাদন করতে পারছে অথবা কোন বন্ধু দেশ তা সরবরাহ করতে পারছে ততদিন সেই সব পণ্য বর্জন করা যাচ্ছে না বলে জানিয়ে ছিল এই ব্যবসায়ী সংগঠনটি ।‌ বর্তমানে ভারত বছরে প্রায় ৫.২৫ লক্ষ কোটি টাকার চিনা পণ্য আমদানি করে থাকে।

তবে এই সংগঠনের যুক্তি, ওইসব বয়কট করা পণ্য ভারতে উৎপাদন করা কঠিন কাজ নয় কারণ এর সঙ্গে কোন বিশেষ প্রযুক্তি যুক্ত নেই। ভারতে উৎপাদন করা গেলে চিনা আমদানির উপর নির্ভর করতে হবে না।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা