রাঁচি: প্রাক্ দেওয়ালিতে ধোনির শহরে টেস্ট ম্যাচ দেখার লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না৷ শনিবার থেকে সিরিজের তৃতীয় তথা সিরিজের শেষ টেস্ট ম্যাচের টিকিটে চাহিদা যে তালানিতে তা স্বীকার করে নিয়েছেন ঝাড়খন্ড স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নাফিস খান৷ সিরিজের শেষ টেস্টে উত্তেজনার পারদ না-চরলেও রাঁচিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩-০ হারাতে মরিয়া বিরাট অ্যান্ড কোং৷

আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এখনও পর্যন্ত কোনও টেস্ট ম্যাচ হারেনি ভারত৷ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট দুই টেস্টের সিরিজ জয়ের পর ঘরের মাঠে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধেও তিন টেস্টের সিরিজে ২-০ এগিয়ে থেকে রাঁচিতে শেষ টেস্টে নামছে কোহলি অ্যান্ড কোং৷ এই মুহূর্তে চারটি টেস্ট জিতে ২০০ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক নম্বরে রয়েছে ভারত৷ দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডের থেকে ১৪০ পয়েন্টে এগিয়ে৷

সিরিজের প্রথম দু’টি টেস্টে প্রোটিয়াদের নাস্তানাবুদ করেছে বিরাটবাহিনী৷ বিশাখাপত্তনমে প্রথম টেস্ট ২০৩ রানে জেতার পর পুণেতে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংসে জয় পায় টিম ইন্ডিয়া৷ বিরাট ব্যাটিং দাপটে ফ্যাফ ডু’প্লেসিদের ইনিংস ও ১৩৭ রানে হারায় বিরাট অ্যান্ড কোং৷ ক্যাপ্টেন কোহলির ডাবল সেঞ্চুরি ও ভারতীয় স্পিনারদের সামনে অসহায় আত্মসমপর্ম প্রোটিয়াদের৷

প্রথম টেস্টে দু’জনের সেঞ্চুরি ছাড়া এখনও পর্যন্ত চলতি সিরিজে প্রোটিয়াদের পারফরম্যান্স বলার মত নয়৷ ভারতীয় ব্যাটসম্যান ও বোলারদারই সিরিজে দাপট দেখাচ্ছে৷ প্রথম টেস্টে ময়াঙ্ক আগরওয়ালের ডাবল সেঞ্চুরি এবং রোহিত শর্মার সেঞ্চুরিতে সহজ জয় পায় ভারত৷ আর পুণেয় দ্বিতীয় টেস্টে ক্যাপ্টেন কোহলির ডাবল সেঞ্চুরি এবং ময়াঙ্কের সেঞ্চুরিতে ছ’শো রানের গণ্ডি টপকে যায় টিম ইন্ডিয়া৷ যা দুই ইনিংসেও টপকাতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা৷

ফলে রাঁচিতেও ভারতের সামনে প্রোটিয়াদের হোয়াইটওয়াশের সুযোগ৷ ব্যাটসম্যানদের পাশাপাশি টিম ইন্ডিয়ার দুই স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা দারুণ ফর্মে রয়েছে৷ প্রথম দু’টি টেস্টেই অশ্বিনের ঝুলিতে ১৪টি এবং জাদেজা তুলে নিয়েছেন ১০টি উইকেট৷ মহম্মদ শামি, উমেশ যাদবরা দারুণ ফর্মে রয়েছেন৷

সিরিজে বিরাটদের দাপট থাকা স্বত্বেও রাঁচিতে টিকিটের চাহিদা নেই বললেই চলে৷ স্টেডিয়াম চত্ত্বরে পাঁচটি টিকিট কাউন্টার খুলেছে ঝাড়খণ্ড স্ট্রেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। পাঁচটিতেই কার্যত মাছি তাড়াচ্ছেন অ্যাসোসিয়েশনের কর্মীরা। শুক্রবার অর্থাৎ ম্যাচের আগের দিনও টিকিট বিক্রির চাহিদা বিশেষ চোখে পড়েনি৷ ফলে কার্যত ফাঁকা গ্যালারিতে ম্যাচ খেলতে হবে কোহলিদের।

মান বাঁচাতে জেএসসিএ ইতিমধ্যেই স্কুল ছাত্রদের জন্য ১০ হাজার টিকিট সংরক্ষিত করেছে। ৫ হাজার বিনামূল্যের টিকিট নির্দিষ্ট করা হয়েছে ক্লাব ও স্থানীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিগুলির জন্য। তার পরেও ৩৯ হাজার দর্শকাসন বিশিষ্ট জেএসসিএ স্টেডিয়ামে ক্রিকেটারদের উৎসাহিত করার মতো পর্যাপ্ত লোক চোখে পড়বে কিনা সন্দেহ।