মুম্বই: ২০১৩’র নভেম্বরে ক্রিকেটবিশ্বকে চোখের জলে ভাসিয়ে সচিন তেন্ডুলকর বিদায় নিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। ওয়াংখেড়ের বাইশগজকে প্রণাম জানিয়ে শেষবার মাঠ ছেড়েছিলেন মাস্টার ব্লাস্টার।

বছর সাতেক পরে ব্যাট হাতে আবার ফিরলেন ওয়াংখেড়ের বাইশগজে। প্রমাণ করলেন মাঝে সময়ের ব্যবধানটুকু কেবল সংখ্যা মাত্র। কিংবদন্তিদের অস্ত্রে জং ধরে না সহজে।

অবসরোত্তর জীবনে ব্যাট হাতে নিয়েছেন কদাচিৎই। কদিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় বুশফায়ার ক্রিকেট ব্যাশে খেলতে নেমেছিলেন সচিন। তবে সেখানে আবহ ছিল প্রদর্শনী ম্যাচের। নিছক মজার ছলে ব্যাট হাতে নিয়েছিলেন। এবার ঘরের মাঠে সচিনের প্রত্যাবর্তন ঘটল কিংবদন্তিদের মহারণে।

রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দু’দেশের কিংবদন্তিদের মধ্যে লড়াই চলল তুল্যমূল্য। এক মুহূর্তের জন্য প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা থেকে সরে দাঁড়াননি কেউই। সচরাচর প্রাক্তন ক্রিকেটাররা মাঠে নামলে লঘু চালে খেলতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে এতটা রিয়াস ম্যাচের প্রত্যাশা করা যায়নি আগে থেকে।

উদ্বোধনী ম্যাচে ইন্ডিয়া লেজেন্ডস দল ৭ উইকেটে পরাজিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ লেজেন্ডসকে। টস জিতে ইন্ডিয়ান লেজেন্ডসের অধিনায়ক সচিন প্রথমে ব্যাট করতে ডাকেন ক্যারিবিয়ানদের। নির্ধারিত ২০ ওভারে ব্রায়ান লারার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে ১৫০ রান তোলে। শিবনারায়ণ চন্দ্রপল দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন। ড্যারেন গঙ্গা করেন ৩২ রান। লারার সংগ্রহ ১৫ বলে ১৭ রান। সংক্ষিপ্ত ইনিংসে ৪টি অনবদ্য বাউন্ডারি মারেন লারা। জাহির খান, মুনাফ প্যাটেল ও প্রজ্ঞান ওঝা ২টি করে উইকেট নেন। ইরফান পাঠান নিয়েছেন ১টি উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত ১৮.২ ওভারে ৩ উইকেটের বিনিময়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫১ রান তুলে নেয়। দীর্ঘদিন পর আবার মাঠ মাতান সচিন-সেহওয়াগের ওপেনিং জুটি। সচিন ৭টি বাউন্ডারির সাহায্যে ২৯ বলে ৩৬ রান করে আউট হন। বীরুর সঙ্গে জুটিতে ৮৩ রান যোগ করেন তিনি। সেহওয়াগ অপরাজিত থাকেন ৭৪ রান করে। ৫৭ বলের ইনিংসে তিনি ১১টি চার মারেন। মহম্মদ কাইফ ১৪ রানের যোগদান রাখেন। ১টি ছক্কার সাহায্যে ৭ বলে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন যুবরাজ সিং। হুপার ২টি উইকেট নেন। ম্যাচের সেরা হয়েছেন বীরু।