শারজা: এ যেন এক স্বপ্নের সলিলসমাধি। দরকার ছিল নিদেনপক্ষে একটি ড্র। প্রথমবার এশিয়ান কাপের নক-আউটে জায়গা করে নিতে এই সমীকরণই যথেষ্ট ছিল সুনীলদের জন্য। সেই লক্ষ্যে সারা ম্যাচে দুর্ধর্ষ ফুটবল উপহার দিল ভারতীয় রক্ষণ। কিন্তু দিনের শেষে ঝিঙ্গান-কোটালদের অধিনায়ক হঠাৎই বনে গেলেন খলনায়ক। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে মারাত্মক ভুলটা করে বসলেন টুর্নামেন্টে প্রথমবার আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামা প্রণয় হালদার।

বক্সে তাঁর অবৈধ ট্যাকেলেই মোক্ষম সময় পেনাল্টি পেল বাহরিন। স্পটকিক থেকে গোল করে ইতিহাস লেখার অদূরেই সুনীলদের দাঁড় করিয়ে রাখলেন জামাল রশিদ। বদলার ম্যাচে বাহরিনের কাছে ০-১ গোলে হেরে এশিয়ান কাপ থেকে ছিটকে গেল ভারত। সমর্থকদের তিল-তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্ন যেন শেষ হয়ে গেল এক লহমায়। দাম রইল না ঝিঙ্গান-প্রীতম স্বয়ং প্রণয়ের সারা ম্যাচে দুরন্ত লড়াকু ফুটবলের।

এযাবৎ এশিয়ান কাপের ইতিহাসে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছিল দুই দেশ। তবে ২০১১ কাতারের মাটিতে অভিজ্ঞতা সুখের ছিল না ভারতীয় দলের জন্য। বাহরিনের কাছে সেবার ২-৫ গোলে হারতে হয়েছিল ভারতীয় দলকে। তাই বদলার ম্যাচ জিতেই নক-আউটে জায়গা করে নিতে চেয়েছিলেন ভারতীয় দলের ব্রিটিশ কোচ স্টিফেন কনস্ট্যানটাইন। অন্ততপক্ষে অমিমাংসিত ফলাফলও মেন ইন ব্লু’র পক্ষে ছিল ইতিবাচক।

সুনীলদের ইতিহাস লেখার ম্যাচে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে প্রথমার্ধ হয়ে উঠল উপভোগ্য। তবে বল পজেশনের পাশাপাশি সুযোগ তৈরির নিরীখেও ব্লু টাইগার্সদের টেক্কা দিয়ে গেল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে চোট পেয়ে আনাসের বেরিয়ে যাওয়ায় কিছুটা ধাক্কা খায় ভারতীয় দুর্গ। তবে আক্রমণে ইতিবাচক কোনও সুযোগ তৈরি না হলেও বাহরিন আক্রমণের সামনে দুর্ভেদ্য হয়ে দাঁড়ালেন সন্দেশ ঝিঙ্গান-উদান্তা সিংরা। প্রথমার্ধ রইল গোলশূন্যই।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখল শারজা। দেশের জার্সি গায়ে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার নিরীখে ‘পাহাড়ী বিছে’কে ছোঁয়ার দিনে তেমন দাগ কাটতে পারলেন না ভারতীয় ফুটবলের পোস্টার বয় সুনীল। তবে নক-আউট নিশ্চিত করার জন্য দরকার ছিল ক্লিনশিট। সারা ম্যাচ দুরন্ত খেলে ভারতকে সেই কাঙ্খিত লক্ষ্যেই এগিয়ে দিচ্ছিলেন প্রণয়ের নেতৃত্বাধীন ঝিঙ্গান-উদান্তারা। এরইমধ্যে পোস্ট একবার সঙ্গ দেয় ব্লু টাইগার্সদের।

তবে বাহরিনের মুহুর্মুহু আক্রমণের সামনে ভারতীয় ডিফেন্ডারদের নাছোড় মনোভাব এবং সর্বোপরি দুর্গের শেষ সেষ প্রহরী গুরপ্রীতের বিশ্বস্ত লড়াই যেন রূপকথার গল্প লিখতে চলেছিল ভারতীয় ফুটবলে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে ভারতীয় রক্ষণের একটা ভুল নক-আউটের দিকে এগিয়ে দিল ১৬ ধাপ পিছিয়ে থাকা বাহরিনকে।

বিপক্ষের একটি আক্রমণ ভারতীয় রক্ষণে প্রতিহত হয়ে জমা পড়ে হামাদ আলসামসানের পায়ে। বিপক্ষ ফুটবলারের পা থেকে বল স্ন্যাচ করতে গিয়ে এযাত্রায় মারাত্মক ফাউল করে বসেন অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচের স্মৃতি ভুলতে চাওয়া প্রণয় হালদার। পেনাল্টি দিতে কোনও ভুল করেননি রেফারি। স্পটকিক থেকে সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বাহরিনের পরের রাউন্ডে যাওয়া নিশ্চিত করেন জামাল রশিদ।