নয়াদিল্লি: দেশে যখন গোমাংস বিক্রি বন্ধের জল্পনা চলছে, তার মধ্যেই প্রকাশ্যে এল এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। জানা গিয়েছে, গোমাংস রফতানিতে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। আগামী এক দশকেও ভারত এই অবস্থানেই থাকবে। সমীক্ষা করে এমন তথ্যই প্রকাশ করেছে ‘ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন’ ও ‘অর্গানাইজেশন ফর ইকনমিক কো-অপারেশন।’

চলতি সপ্তাহে এই রিপোর্ট প্রকাশ পেয়েছে। রিপোর্টের পরিসংখ্যান বলছে ভারত গত এক বছরে ১৫ লক্ষ ৬০ হাজার টন গোমাংস বিদেশে রফতানি করেছে। অনুমান করা হচ্ছে ২০১৬ পর্যন্ত ভারত এই অবস্থান থাকবে। ওই বছরে ১৯ লক্ষ ৩০ হাজার টন গোমাংস রফতানি করা হবে বলেও সার্ভেতে উঠে এসেছে। বিশ্ব জুড়ে হওয়া মোট গোমাংস রফতানির ১৬ শতাংশ ভারত থেকে হয় বলেও জানা গিয়েছে।

২০১৬-তে বিশ্বে মোট রফতানি হওয়া গোমাংসের পরিমাণ ১০.৯৫ মিলিয়ন টন। গোমাংস রফতানিতে বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে ব্রাজিল আর দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়া।

কিছুদিন আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে এক নোটিশ দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এই নিয়মের আওতায় শুধু গোরু নয়, ষাঁড়, উট সবকিছুকেই ফেলা হয়েছে। Prevention of Cruelty to Animals (PCA) of 1960 ধারা অনুযায়ী, এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কেবলমাত্র চাষের কাজেই গোরু ব্যবহার করা যাবে বলে এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।

কিছুদিন আগেই গুজরাতে এই নিয়ম চালু করা হয়েছে যে, গোহত্যা এবং গোমাংস কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত থাকলেই মিলবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি৷ বিজেপি সরকার শুক্রবার এই গরু পাচারকারীদের জন্য এই কঠিন আইন পাস করে৷ ন্যুনতম ১০ বছরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সুপারিশ জারি করা হয়েছে৷ ২০১১সালে বিজেপি সরকার গরু রক্ষার জন্য একটি আইন প্রণয়ন করে৷ সুপ্রিম কোর্টে তারপরই এই বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছিল৷ সেখানেই গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি জানিয়েছিলেন, ২০১১সালে প্রণোদিত আইনটিকে আরও কঠোর করতে হবে৷

নরেন্দ্র মোদী ২০১১ সালে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন এই বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন৷ এই ঘটনায় কেউ আটক হলেই তাকে ১৯৫৪এর গুজরাতের প্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় শাস্তি দেওয়া হবে৷ গো হত্যার সঙ্গে জড়িত সমস্ত অপরাধই গুজরাতে প্রাণী সংরক্ষণের আওতায় পড়বে৷