নয়াদিল্লি : সর্বোচ্চ হারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ধারাবাহিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ব্রাজিলের ঠিক পরেই রয়েছে ভারত। করোনা আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই দেশ। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন মে-জুন মাসে সর্বোচ্চ কামড় বসাবে করোনা ভাইরাস। সেই পথেই হাঁটছে ভারত। জানা গিয়েছে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক হটস্পটে পরিণত হয়েছে দেশ।

অবশ্য এই তালিকায় রয়েছে অন্যান্য দেশও। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন, ব্রাজিলকেও আন্তর্জাতিক হটস্পট বল হচ্ছে। খুব দ্রুত সর্বোচ্চ করোনা আক্রান্ত দেশের তালিকায় প্রথম পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে ভারত, যা রীতিমত আশঙ্কার। গত বেশ কয়েকদিনে সংক্রমণ ছড়ানোর সর্বোচ্চ হার দেখা গিয়েছে ভারতে।

লকডাউনে শিথিলতা আনার পরেই এই অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। লকডাউনের কড়াকড়ি উঠে যাওয়ার পরেই পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে খবর। প্রতিদিন ভারতে গড়ে ২৪০০ জন আক্রান্ত হচ্ছেন। পয়লা মে থেকে এই ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। ৭ই মের পর থেকে ৩০০০রের বেশি নতুন করে প্রতিদিন আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন গত এক সপ্তাহে গড়ে ৫-৬ হাজার নতুন ভাবে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছে ভারত। ১৯শে মে সবথেকে কম আক্রান্ত ছিল, ৪৯৭০ জন সেদিন আক্রান্ত হয়েছিলেন। এই পরিস্থিতিই আন্তর্জাতিক হটস্পট বানিয়ে তুলেছে ভারতকে। মে মাসের শেষে যদি লকডাউন পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়, তবে জুলাইয়ের মাঝামাঝি করোনা আক্রান্তের হার আকাশ ছোঁবে। এমনই জানাচ্ছে পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া।

মে মাসে সর্বোচ্চ হার হওয়ার আরও একটা কারণ রয়েছে বলে জানাচ্ছে পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন। তাদের মতে এপ্রিল মাসের পর থেকে করোনা পরীক্ষা করার সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। এপ্রিলে যেখানে ৫৬০০টিরও কম পরীক্ষা হত, সেখানে মে মাসে পরীক্ষা হচ্ছে লক্ষাধিক। ফলে আক্রান্ত ধরাও পড়ছে বেশি মাত্রায়। ২১শে মে ২০ লক্ষ পরীক্ষা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ৯-১০ মে যেখানে পরীক্ষা হয়েছিল ১০ লক্ষ। দশদিনের মধ্যে সেই সংখ্যাটা দ্বিগুণ করা হয়েছে।

মহারাষ্ট্র, বিহার, গুজরাত, দিল্লি করোনা ভাইরাসের আঁতুড়ঘর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ইতিমধ্যেই। প্রতি এগারো দিন অন্তর আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে বলে খবর। এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় ৬৬৫৪জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে, এই নিয়ে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২৫,১০১। মৃত্যু হয়েছে ৩৭২০ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় মারা গিয়েছেন ১৩৭ জন।