নয়াদিল্লি: পুরনো তিক্ততা ভুলে কি তবে কাছাকাছি আসছে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান? জল্পনার সূত্রপাত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের টেলিফোনিক কথোপকথন নিয়ে। এই কূটনৈতিক আবহে দেখা দিলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

বাংলাদেশকে পাক শাসন থেকে মুক্ত করার ইতিহাসে ভারতের ভূমিকা মনে করিয়ে দিলেন বিতর্কিত লেখিকা। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে জন্ম দিতে ভারত ঠিক কীভাবে সাহায্য করেছে সে বিষয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। তসলিমা মনে করিয়েছেন, ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে খুনের পর টানা পাঁচ বছরের জন্য পরিবার নিয়ে ভারতে অতিথি হিসেবে ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

“পুরনো বন্ধুর হাত ছেড়ে শেখ হাসিনা এবার নতুন বন্ধুর হাত ধরতে চাইছেন। আমার মনে হয় না এটা বিশেষভাবে কোন ভালো ভাবনা”। এমনই টুইট করেছেন তসলিমা নাসরিন।

তিনি লিখেছেন, “১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে জন্মাতে সাহায্য করেছিল ভারত। শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালে পিতার হত্যার পরের পাঁচ বছর পরিবার সমেত ভারতের অতিথি হয়ে ছিলেন। হাসিনা এবার নতুন বন্ধুর কাছে যেতে পুরনো এক বন্ধুকে ছেড়ে দিচ্ছেন। আমার মনে হয় না এটা খুব একটা ভালো ভাবনা”।

এদিকে ইমরান খানের সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ ঘিরে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের কূটনৈতিক মহল সরগরম। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক । সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান কাছাকাছি আসছে।

এই কূটনৈতিক জল্পনায় বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন পাকিস্তানের কাছাকাছি আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি জানান, ঢাকা এবং ইসলামাবাদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সূত্রে পাক প্রধানমন্ত্রী কথা বলতেই পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।

তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেহাত সৌজন্যমূলক কথাবার্তা বলেছেন শেখ হাসিনা৷ করোনা সংক্রমণ এবং বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজ নিতেই ফোন করেছিলেন ইমরান৷ এর মধ্যে অন্য কোনও মানে খোঁজা উচিত নয়৷

তবে এই ফোনালাপের পর পাকিস্তানের জাতীয় সংবাদ সংস্থা এপিপি কে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানায়, ইমরান খান সেই ফোনালাপে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে কিছু কথা বলেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। এরপরেই আলোড়িত হয় কূটনৈতিক মহল। পরে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশর অবস্থানে নয়াদিল্লি খুশি।

আরও বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান যে অত্যাচার করেছে, তা তাঁরা কোনওদিন ভুলতে পারবেন না৷ মোমেন বলেন, “পাকিস্তান আমাদের ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে, বহু মহিলার সম্মানহানি করেছে৷ এসব অপরাধের জন্য পাকিস্তান আজ পর্যন্ত ভুল স্বীকার করেনি।”

হাসিনার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মোমেন রাম মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করা নিয়েও রবিবার ঘুরিয়ে নিজেদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, এমন কোনও পদক্ষেপ করা উচিত নয় যা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক খারাপ করে।

পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও তা খুব ভালো নয়। আন্তর্জাতিক মঞ্চ ছাড়া এই দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও সাধারণত মুখোমুখি হন না।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।