রাঁচি: সিরিজের তৃতীয় তথা শেষ টেস্টেও ভারতীয়দের দাপট অব্যাহত৷ প্রথম দু’টি টেস্টের মত রাঁচিতেও প্রোটিয়াদের নাস্তানাবুদ করল বিরাটবাহিনী৷ রবিবার দ্বিতীয় দিনেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া৷ সোমবার প্রথম সেশনে চারটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে আধিপত্য বজার রাখে কোহলি অ্যান্ড কোং৷ মধ্যাহ্নভোজের পর দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ করে ফ্যাফ ডু’প্লেসিদের ফলো-অন করায় ভারত৷

রাঁচিতে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে রোহিত শর্মার ডাবল সেঞ্চুরি ও অজিঙ্ক রাহানের সেঞ্চুরিতে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ৯ উইকেটে ৪৯৭ রান তুলে প্রথম ইনিংস ছেড়ে দিয়েছিল টিম কোহলি৷ রবিবার পড়ন্ত বিকেলে মাত্র ৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা৷ সিরিজে ফর্মে থাকা দুই ব্যাটসম্যান ডিন এলগার (০) এবং কুইন্টটন ডি’কক-কে (৪) প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখিয়েছিলেন মহম্মদ শামি ও উমেশ যাদব।

সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিনের শুরুতেই ক্যাপ্টেন ডু’প্লেসিকে (১) প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠিয়ে প্রোটিয়াদের আরও ব্যাকফুটে ঠেলে দেন উমেশ৷ মাত্র ১৬ রানে তিন উইকেটে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা৷ তবে চতুর্থ উইকেটে জুবের হামজা ও তেম্বা বাভুমা ৯১ রান যোগ করে প্রোটিয়াদের লড়াইয়ে ফেরায়৷ কিন্তু সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলা হামজা টেস্ট কেরিয়ারে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি করে ব্যক্তিগত ৬২ রানে রবীন্দ্র জাদেজার বলে বোল্ড হন৷ পরের ওভারে বাভুমাকে প্যাভিলিয়নে ফেরান রাঁচিতে টেস্ট অভিষেক হওয়া শাহবাজ নাদিম৷ তারপর জাদেজার বলে ব্যক্তিগত ৬ রানে বোল্ড হন ক্লাসেন৷

১২৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে লাঞ্চে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা৷ মধ্যাহ্নভোজ সেরে মাঠে নামার পর দ্রুত দুই উইকেট হারায় প্রোটিয়াবাহিনী৷ শামির বলে এলবিডব্লিউ হন ডিন পিট৷ তারপর উমেশের দুরন্ত থ্রো-তে খাতা খোলার আগেই রান-আউট হন কাগিসো রাবাদা৷ এরপর নর্টজে নিয়ে জর্জ লিনদে লড়াই করলেও শেষরক্ষা হয়নি৷ ১৬২ রানে শেষ হয়ে যায় প্রোটিয়াদের প্রথম ইনিংস৷ ৩৩৫ রানে এগিয়ে থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্ত নিল টিম কোহলি৷

মাত্র তিন ব্যাটসম্যান দুই অংকের রানে পৌঁছন৷ হামজার হাফ-সেঞ্চুরি ছাড়া বাভুমা ৩২ এবং জর্জ লিন্ডে ৩৭ রান করেন৷ ভারতের সর্বাধিক তিনটি উইকেট নেন উমেশ৷ ৯ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৪০ রান খরচ করে তিন উইকেট তুলে নেন বিদর্ভের এই ডানহাতি পেসার৷ এছাড়া শামি, নাদিম ও জাদেজা দু’টি করে উইকেট নেন৷