কাঠমান্ডু: দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের পরেও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ইস্যুতে মনোমালিন্য দেখা গিয়েছে ভারত-নেপালের মধ্যে। সীমান্ত নিয়ে চিনের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ থেকে রাম জন্মভূমি নিয়ে বাকবিতণ্ডার পরেও সাহায্যের হাত বাড়াল ভারত।

রবিবার নেপালকে ১০টি ভেন্টিলেটর দিয়ে সাহায্য করেছে ভারত। এইগুলি নেপালের আর্মি স্টাফ জেনারেল প্রধান পূর্ণচন্দ্র থাপাকে হস্তান্তর করেছেন নেপালে উপস্থিত ভারতের দূত বিনয় মোহন কাত্রা। নেপালের সেনা সদর দফতরে ভেন্টিলেটরগুলি তুলে দেওয়া হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে নেপালের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ক্রমশ অবনতির দিকে গিয়েছে। আর নেপালের নতুন মানচিত্রেই তার সূত্রপাত। ভারতের তিনটি জায়গা নিজেদের মানচিত্রে রেখে বিতর্কের মুখে পড়েছে নেপালের কমিউনিস্ট সরকার। এবার সেই মানচিত্রই ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল।

শুধু ভারতেই নয়, গুগলে ও ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির কাছেও ওই মানচিত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অগস্টের মাঝামাঝিতেই মানচিত্র পাঠিয়ে দেওয়া হবে। নেপালের ওই পরিবর্তিত মানচিত্রে জায়গা পেয়েছে ভারতের লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা।

এদিকে, দিন কয়েক আগেই ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ হঠাত করেই বেড়া দিতে শুরু করে নেপাল সেনাবাহিনী। উত্তরাখন্ডের সঙ্গে নেপালের যে সীমান্ত রয়েছে সেখানে নো ম্যানস ল্যান্ডে এই বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করে নেপাল বাহিনী। আর এই কাজ চলাকালীন চলে ব্যাপক ভারত বিরোধী স্লোগান। বেড়া দেওয়ার খবর পৌঁছয় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর কাছে। ঘটনাস্থলে যান ভারতীয় আধিকারিকরা।

সেনা আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানো মাত্র উত্তেজনা আরও ব্যাপক আকার নেয় বলে জানায় এক সংবাদমাধ্যম। ১০০ থেকে ১৫০ মিটারের ওই এলাকাটি নিজেদের দাবি করে নেপালিরা ভারত-বিরোধী স্লোগান দেয়। উল্লেখ্য নেপালের দাবি অনধিকার প্রবেশ ঘটিয়েছে ভারত।

এদিকে রাম জন্মভূমি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি। রাম জন্মভূমি আযোধ্যয় নয়। নেপালের অযোধ্যাপুরীতেই জন্ম রামের, এমনটাই দাবি জানিয়েছেন তিনি।

নেপালের মধ্যেই ওলির এমন দাবিতে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এমনকি নেপালের জানকী মন্দিরের পুরোহিতও ওলির এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। নেপালের পুরোহিত আচার্য দুর্গা প্রসাদ গৌতমকে অযোধ্যার ভূমিপূজনে ডাকা হয়েছিল। তিনিও নেপালের প্রধানমন্ত্রীর এমন দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছেন।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।