নয়াদিল্লি : গেমের দুনিয়ায় ভারতের কারিকুরি ওই মোবাইল অবধি। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ক্রিকেট ও বেশ কিছু বলিউড সিনেমার প্রমোশনের জন্য তৈরি ফিল্মের চরিত্র নিয়ে বানানো গেম বেশ জনপ্রিয় হয়েছে দেশে। পিসি গেমের ক্ষেত্রে ভারতের ঝুলি প্রায় ফাঁকা বললেই চলে। তবে এই শূন্যতার মাঝেও ভারতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল “যোদ্ধা- দ্য ওয়ারিয়র” পিসি গেমটি। অনেকেই হয়তো জানে না এই পিসি গেম কিন্তু ভারতেই তৈরি।

ইন্ডিয়া গেমসের বানানো “যোদ্ধা- দ্য ওয়ারিয়র” আবার ভারতের প্রথম থ্রি ডি গেম। ঘটনাচক্রে এটিই হল ভারতে নির্মীত প্রথম কমার্শিয়ালি পিসি গেম। ২০০০ সালে নির্মীত এই ওয়ান ম্যান পিসি গেম বেশ ভালো জায়গা করে নিয়েছিল দেশীয় বাজারে। প্রশ্ন হল গেমের বাজারে ভারতের টিম টিম বাতির আলোর মাঝে কিভাবে নিজের জায়গা করে নিল এই যোদ্ধা? ইন্ডিয়া গেমসের ফাউন্ডার বিশাল গোন্ডাল ও নিনাদ ছায়া জানিয়েছেন  সাফল্যের আসল কাহিনী। গেমের সাফল্যের নিরিখে আছে শোলে ও কার্গিল যুদ্ধ।

সংস্থার কর্ণধারদের সূত্রে জানা গিয়েছে একটি আকর্ষণীয় তথ্য।  ওয়ান ম্যান গেম “যুদ্ধ – দ্য ওয়ারিওর” পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল বলিউডের তীব্র মারকাটারি সিনেমা শোলেকে সামনে রেখে। ভাবা হয়েছিল ছবির  নামেই গেমের নামকরণ করা হবে৷ নির্মাতাদের ছাড়পত্র না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি৷

১৯৯৯ সালে হয়েছিল কার্গিল যুদ্ধ। ঠিক পরের বছরেই বাজারে আসে যুদ্ধ – দ্য ওয়ারিয়র। কার্গিল যুদ্ধকে ঘিরে ভারত–পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক তখন খুবই খারাপ। গেমে ভারতীয়রা মারতে পারতেন পাক জঙ্গিদের। সেটাই মানুষকে দারুন আনন্দ দিত। যা এই পিসি গেমকে পৌঁছে দেয় সাফল্যের শিখরে।

তা ছাড়া ওয়ারিওরের আগে তাদেরই বানানো ব্রাউজার গেম আই লাভ ইন্ডিয়া দারুন সফল হয়। সেটিও তৈরি হয়েছিল কার্গিল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। গেমে পাক অনুপ্রবেশকারী ও নাওয়াজ শরিফের ওপর গুলি , বোমা বর্ষণ করে পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারত ইউজাররা। এই দুয়ে দুয়ে চার হয়ে যেতেই ভারতীয়দের হাতে চলে আসে “যোদ্ধা – দ্য ওয়ারিয়র”।