মুম্বই: যা পরিস্থিতি তাতে প্রায় দুই দশক পর ভারতে কর্পোরেট এবং আয়কর আদায় এই বছরে প্রথম কমতে চলেছে। আয়কর দফতরের প্রায় আধ ডজন সিনিয়র অফিসার তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে। অর্থনৈতিক মন্দা এবং কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর দরুন এমনটা ঘটেছে বলেই তাদের অনুমান।

মোদী সরকার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছিল এই অর্থবর্ষে প্রত্যক্ষ কর আদায় হবে ১৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা, যা গত আর্থিক বছরের তুলনায় ১৭শতাংশ বেশি। অর্থনৈতিক মন্দার জেরে চাহিদা কমে আসায় সংস্থাগুলি লগ্নি এবং কর্মসংস্থান কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। এই পরিস্থিতির দরুন সরকার তাদের বৃদ্ধির ভবিষ্যৎ বাণী কমিয়ে ৫ শতাংশ করেছে। এই অর্থবর্ষে যা গত ১১ বছরের সর্বনিম্ন। ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত কর দফতর মাত্র ৭.৩ লক্ষ কোটি টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে, যা গত বছরের এই সময়ের আদায়ের চেয়ে ৫.৫ শতাংশ কম বলে জানিয়েছেন কর দফতরের এক আধিকারিক।

গত তিন বছরের তথ্য অনুসারে প্রথম তিনটি ত্রৈমাসিকে সংস্থার কাছ থেকে অগ্রিম কর বাবদ যা আদায় হয় তা শেষ তিন মাসের ৩০-৩৫ শতাংশ। রয়টার্স আটজন সিনিয়র কর অফিসারের সঙ্গে কথা বলে জেনেছে তাদের রীতিমতো চেষ্টা সত্ত্বেও এই অর্থবর্ষে প্রত্যক্ষ কর আদায় ১১.৫ লক্ষ কোটি টাকার কম হবে যা আদায় হয়েছিল ২০১৮-১৯ সালে। এক কর অফিসারের বক্তব্য, লক্ষ্যমাত্রা ভুলে যান। তাঁর হিসাব অনুযায়ী এই বছর গত অর্থবছরের তুলনায় মোটামুটি ১০ শতাংশ কম হবে।

মোটের ওপর প্রত্যক্ষ কর হল সরকারের বার্ষিক আয়ের ৮০ শতাংশ। এমনটা ঘটলে সরকার বাধ্য হবে খরচ মেটাতে আর ও ধার করতে। কর অফিসারের বক্তব্য অবাক করা কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রকে চাঙ্গা করার প্রচেষ্টা হল অন্যতম প্রধান কারণ কর আদায়ের এমন দুর্দশার। এক কর আধিকারিক জানিয়েছেন, যা পরিস্থিতি তাতে যদি গত বছরের সমান কর আদায় রাখা যায় তাহলে খুশি হবেন তিনি।