নয়াদিল্লি : চিনা আগ্রাসনের উচিত জবাব ভারতের। এবার দক্ষিণ চিন সাগরে নিজেদের আধিপত্য বাড়ানোর চেষ্টা করতে চলেছে ভারত। নৌবাহিনীর মহড়ার সংখ্যা বাড়ানো বা টহলদারির পরিমাণ বাড়নোর ওপর জোর দিতে চাইছে নয়াদিল্লি। চিনকে চাপে রাখতে নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।

ভারতের এই প্রস্তাবে সহমত ফিলিপিনস। সেদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডেলফিন লোরেনজানা দক্ষিণ চিন সাগরে ভারতের নৌবাহিনীর মহড়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ফিলিপিনসও ভারতের সঙ্গে এই মহড়ার অংশ হতে চায় বলে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, এই বিষয়ে কথা বলা হয়েছে ভিয়েতনামের সঙ্গেও। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে লাদাখে শান্তি ফেরাতে দক্ষিণ চিন সাগরে ভারতে আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা চিনকে বেশ শিক্ষা দেবে। এর আগে, ভিয়েতানামের বিদেশমন্ত্রক অভিযোগ করেছিল সেদেশের মৎস্যজীবীদের নৌকায় হামলা চালায় চিনা নৌবাহিনীর জাহাজ। দক্ষিণ চিন সাগরে এই ঘটনা ঘটে। পার্সেল আইল্যান্ডের কাছে এই হামলার শিকার হয় ভিয়েতনামের মৎস্যজীবীদের নৌকা।

উল্লেখ্য এই দ্বীপকে চিন নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। এপ্রিল মাসেও একই অভিযোগ করেছিল ভিয়েতনাম। বৃহস্পতিবার জাপানও চিনা উস্কানির অভিযোগ আনে। টোকিও জানায়, চিন ৬৬ দিন ধরে সেনকুকু দ্বীপপুঞ্জের সামনে নিজেদের নৌবাহিনী মোতায়েন রাখে। পূর্ব চিন সাগরের ওপর এই দ্বীপ জাপানের এক্তিয়ারভুক্ত। একই অভিযোগ আনে ইন্দোনেশিয়াও।

চিন জলসীমা নিয়ে ক্রমাগত উত্যক্ত করছে বলে অভিযোগ সেদেশের। এই প্রেক্ষিতেই কূটনীতিকদের মত বন্ধু রাষ্ট্রগুলি মিলে চিনের বিরুদ্ধে অ্যান্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার চালু করা উচিত। সেক্ষেত্রে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত উপযুক্ত। একে কাজে লাগানো উচিত ভারতের।

আমেরিকা, জাপানের সামনে তাই দ্বীপপুঞ্জের বন্দরগুলি খুলে দিক ভারত, যাতে যৌথভাবে চিনের আগ্রাসনের মুখোমুখি হওয়া যায়। একই ভাবে দক্ষিণ চিন সাগরে ভারতের মহড়া চিনকে ধাক্কা দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ফিলিপিনস জানিয়েছে দক্ষিণ চিন সাগর কোনও দেশের নিজস্ব সম্পত্তি নয়।

সব দেশেরই সেই জলসীমা ব্যবহার করার অধিকার রয়েছে। তবে এই সমুদ্রসীমায় চিনের বাড়বাড়ন্ত দেখে বেশ উদ্বিগ্ন ফিলিপিনস। ফিলিপিনসের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর টেলিফোনিক সাক্ষাতকারের পরেই এই বিবৃতি দেয় ওই দেশ। গত বছরই ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপিনস, জাপান যৌথভাবে দক্ষিণ চিন সাগরে মহড়া দেয়।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ