নয়াদিল্লি: পনেরোতম ভারত-ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সম্মেলন হতে চলেছে বুধবার। মনে করা হচ্ছে, চলতি বছরে চিনের ঊর্ধ্বমুখী ঔদ্ধত্যকে কেন্দ্রবিন্দু রেখে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

এই সম্মেলনে মূলত তিনটি ক্ষেত্রকে নজর দেওয়া হবে, যেমন অর্থনৈতিক বিবাদ, বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করা এবং করোনা অতিমারির প্রতিকূল প্রভাব এই বিষয়গুলিকে সামনে রেখেই এগোনো হবে এই সামিট।

ভারত-চিন সীমান্ত সংঘর্ষ আলোচনায় উঠে আসবে কি না তা জানতে চাওয়া হলে জানা গিয়েছে, “সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আলোচনার একটি অংশ হলেও এক্ষুনি তা বলা সম্ভব নয়। শীর্ষস্থানীয় নেতারা আলোচনা যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে। তবে আলোচনার পরে তা পরিষ্কার করা হবে”।

গ্লোবাল সাপ্লাই চেন আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে কারণ ভারতের তরফে চিনের গ্লোবাল সাপ্লাই চেন বিষয়ে বিকল্প কি হতে পারে তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফ বোরেল বলেছেন, “ইইউ চিনের ব্যাপারে অন্ধকারে রয়েছে, এমনটা নয়। সমান্তরাল ভাবে আমাদের এশিয়ার বড় শক্তিগুলির সঙ্গে অংশিদারিত্ব বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা সমমনস্ক, বহুত্ববাদ, আন্তর্জাতিক আইন মেনে বহুপাক্ষিক ধারণায় বিশ্বাসী”।

নয়াদিল্লিতে সাউথ ব্লকের এক কর্তার কথায়, “আন্তর্জাতিক স্তরে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। সেটি পূ্রণ করার জন্য ঝাঁপানো উচিত। না-হলে চিন আরও আগ্রাসী হয়ে উঠবে। আর বিশ্বের বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাও চাপের মধ্যে। ভবিষ্যতের বিশ্ব ব্যবস্থা নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন”।

সূত্রের মতে, অতিমারি আক্রান্ত বিশ্বে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিচ্ছে দু’পক্ষই। আমেরিকা যখন ক্রমশ আর্থিক রক্ষণশীলতার চাদরে নিজেদের মুড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে তখন ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলির গাঁটছড়া বাঁধার প্রয়োজন অত্যন্ত বেড়ে গিয়েছে।

কূটনীতিকদের মতে, আগামী বুধবারের এই ভিডিয়ো সম্মেলনটি বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট শার্ল মিশেল।

প্রসঙ্গত, পয়লা জুলাই থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধীনে দেশগুলিতে বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রবেশাধিকারের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে তাতে বাদ পড়ছে আমেরিকা ব্রাজিল ও চিনের নাগরিকরা। এজন্য ১৪টি নিরাপদ রাষ্টের তালিকা করা হয়েছে। সেই ‌‌ তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া কানাডা জাপান দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ।

কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, ইইউ এই তালিকায় চিনকে অন্তর্ভূক্ত করতে পারে, যদি চিন সরকারও একই ভাবে ইউরোপীয় পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়।তাছাড়া নিরাপদ দেশের আপাতত নতুন যে তালিকা করা হয়েছে সেটিতে পরে আরো পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ