কোচি: এএফসি এশিয়ান কাপে ব্যর্থতার ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও একটা খারাপ খবর ভারতীয় ফুটবলমহলে৷ ব্লু টাইগাররা ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরুর আগেই জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ালেন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আনাস এডাথোডিকা৷

এশিয়ান কাপে দলের ব্যর্থতায় হতাশ হলেও কেরলা ব্লাস্টার্সের ৩১ বছর বয়সি সেন্ট্রাল ব্যাক আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিতে বাধ্য হলেন ক্রমাগত চোট পাওয়ার প্রবণতার জন্য৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করে আনাস জানান, নতুনদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার এটাই সঠিক সময়৷

আরও পড়ুন: সরে দাঁড়ালেন কনস্ট্যানটাইন

জাতীয় দলের আঙিনায় খুব বেশিদিন বিচরণ করেননি৷ স্টিফেন কনস্ট্যান্টাইনের আমলে ২০১৭’র মার্চে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পান৷ তখন আনাসের বয়স ছুঁয়েছে ত্রিশের কোঠা৷ কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে ভারতের জয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তাঁর৷ তবে অল্প দিনের মধ্যেই সন্দেশ ঝিংগানের সঙ্গে ডিফেন্সভ পার্টনারশিপে কোচের প্রথম পছন্দের সেন্টার ব্যাক হয়ে ওঠেন৷

দু’বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ভারতের হয়ে মোট ১৯টি ম্যাচ খেলেছেন আনাস৷ এএফসি কাপে বাহরিনের বিরুদ্ধে ভারতের শেষ ম্যাচে খুব বেশিক্ষণ মাঠে থাকতে পারেননি তিনি৷ মাত্র চার মিনিট খেলার পরেই চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যান তিনি৷ডাগআউটে বসে দলের হার দেখে দৃশ্যতই ভেঙে পড়েন আনাস৷ দেশে ফিরেই ইনস্টাগ্রামে নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করেন জাতীয় দলের এই তারকা ডিফেন্ডার৷

আরও পড়ুন: ‘রক্ষণাত্মক নীতিই ডোবাল আমাদের’

অবসর প্রসঙ্গে আনাস লেখেন, ‘অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ভারতের জাতীয় ফুটবল দল থেকে আমার অবসরের কথা জানাচ্ছি৷ এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো এবং সেটাকে মেনে নেওয়া খুবই কঠিন৷ নিজের সেরাটা দিয়ে আরও কয়েক বছর খেলতে পারতাম তবে আমার মনে হয় নতুনরা, যারা আরও ভালো পারফর্ম করতে পারে, তাদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়ার এটাই সঠিক সময়৷’

View this post on Instagram

It comes with a very heavy heart today to announce my retirement from Indian national football team. It’s been a very hard decision to take and accept. I love to play more years at my best, but I think it’s the time to step down and give opportunities to youngsters who can perform better. It took 11 years to break into the national team and playing for the national team is the top achievement in my career; although the journey was short. Each and every time I tried to give more than 100 percent for the team. I was so disappointed to pick up an injury in the opening minutes and it will hurt me forever. I just want to say a huge thanks to the coach @stephenconstantine for believing in me and giving me the opportunity and I wish you good luck for the future. Also thanks to all the coaching staffs, teammates, the fans and who all have supported me throughout my journey for the national team. I have been blessed to play for my country, with some of the best players. My heart will forever embrace the feeling of walking through the tunnel and out onto the field donning the national jersey with my brothers. @sandesh21jhingan, we had a good partnership in guarding the central defence, it was an emotion playing with you, Brother. @jejefanai, Trust me, you’re the best room partner I ever had and I’ll miss all these! I wish you all good luck and keep making our nation proud. These memories will stay with me forever, ♥️. I’m not giving up, my loves. I think this is right time to take the right decision. Much love, Anas Edathodika.

A post shared by Anas Edathodika (@anasedathodika15) on

আনাস আরও লেখেন, ‘জাতীয় দলে ঢুকতে দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল৷ জাতীয় দলের হয়ে খেলাটাই আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি৷ যদিও যাত্রাটা দীর্ঘ হল না৷ জাতীয় দলের হয়ে প্রত্যেকবার নিজের একশো শতাংশেরও বেশি দেওয়ার চেষ্টা করেছি৷ শেষ ম্যাচের শুরুতেই চোট পেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টা আমাকে চিরকাল কষ্ট দেবে৷ কোচ কনস্ট্যান্টাইনকে ধন্যবাদ আমার উপর আস্থা রাখার জন্য৷ ওনার ভবিষ্যৎ জীবনের শুভেচ্ছা রইল৷ জাতীয় দলের অন্যান্য কোচিং স্টাফ, সতীর্থ ও অনুরাগীদের ধন্যবাদ আমাকে সমর্থন করার জন্য৷’