নয়াদিল্লি : ভারতের এলাকায় জবর দখল করে সেখানে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে পাকিস্তান। ৮০০ শতকে তৈরি করা এক বৌদ্ধমূর্তিকে ধ্বংস করার কোনও অধিকার নেই পাকিস্তানের। অবিলম্বে এলাকার দখল ছেড়ে দিক ইসলামাবাদ। পাহাড়ের গায়ে ফুটিয়ে তোলা এক প্রাচীন শিল্পকর্মকে নষ্ট করে দেওয়ার ঘটনার এই ভাষাতেই কড়া নিন্দা করল নয়াদিল্লি।

বুধবার ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট বালটিস্তানে এই ধ্বংসকার্য চালানো হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানান, এই ধরণের ঐতিহ্যপূর্ণ বৌদ্ধমূর্তি ধ্বংস করে মানব সভ্যতার ঐতিহ্য ও গর্বকে শেষ করে দিচ্ছে পাকিস্তান। তাদের ওই এলাকায় থাকার কোনও অধিকার নেই। ওই এলাকা ভারতের ছিল, সেখানে জোর করে অধিকার কায়েম করেছে ইসলামাবাদ। এই ধরণের ঘটনার তীব্র নিন্দা করা উচিত।ভারতকে গিলগিট বালটিস্তানের ওই অংশে নষ্ট হয়ে যাওয়া বৌদ্ধমূর্তি পুনঃসংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হোক।

বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র আরও জানান, এই ধরণের প্রাচীন বৌদ্ধমূর্তি নষ্ট করার ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এইভাবে একের পর এক প্রাচীন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপত্যগুলি নষ্ট হয়ে গেলে মানবসভ্যতার বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। পরধর্ম সহিষ্ণুতা কোনওদিনই পাকিস্তানে ছিল না। অবশ্য এই ধরণের আচরণ পাকিস্তানের মানসিকতার সঙ্গেই খাপ খায়। ভারতের দাবি গিলগিট বালটিস্তানের মানুষের জীবনযাত্রাকে জবরদস্তি প্রভাবিত করার চেষ্টা চালায় ইসলামাবাদ, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

উল্লেখ্য পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা এই বৌদ্ধমূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা সামনে আসে ২৬শে মে। শুধু ভাঙচুরই নয়, দুষ্কৃতীরা পাহাড়ের গায়ে বেশ কিছু স্লোগানও লিখে রেখে গিয়েছে। আঁকা হয়েছে পাকিস্তানের পতাকা। জানা গিয়েছে, পাকিস্তান ও চিনের যৌথ উদ্যোগে ওই এলাকায় একটি বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা তাতে বাধা দেন। কারণ ওই নির্মাণ কাজ শুরু হলে স্থাপত্যের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এরপরেই এই ঘটনা ঘটে।

ফলে মনে করা হচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই কেউ বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এই প্রসঙ্গে তালিবানদের হাতে ২০০১ সালে ধ্বংস হওয়া প্রাচীন বৌদ্ধমূর্তির উল্লেখ করছেন অনেকেই। আফগানিস্তানের বামিয়ান উপত্যকায় পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা মূর্তিগুলির অবস্থা দেখে গোটা বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। পাকিস্তানে কি তাহলে তালিবানি নৃশংসতা ফিরে আসছে, প্রশ্ন ভারতের।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।