নয়াদিল্লি: থমকে গিয়েছে চন্দ্রায়ন মিশন। একেবারে শেষ মুহূর্তে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে বিক্রমের সঙ্গে। হতাশায় গ্রাস করেছে ইসরোর বিজ্ঞানীদের। যদিও ইসরোর এই চেষ্টাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা দেশ। শুধু ভারতই নয়, ইসরোর চন্দ্রায়নকে স্যালুট জানিয়েছে খোদ নাসা। ভারতের এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় এই কাজ আগামীদিনে বিজ্ঞানকে নতুন পথ দেখাবে বলেও জানাচ্ছে নাসা।

তবে শুধু এই প্রকল্পই নয়, ইসরো নানা ভাবে গোটা বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে। দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই হোক আর যে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ভারতবাসীকে সাহায্য করে। আবার শত্রুপক্ষকে শায়েস্তা করতে সমুদ্রে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতেও সাহায্য করছে ইসরো৷

কীভাবে? রহস্যজনক কোনও জাহাজ কিংবা নৌকা দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে সেই ছবি স্যাটেলাইট মারফত পৌঁছে যাবে ইসরোর কাছে৷ উদ্দেশ্য, ২৬/১১র মত যাতে ভবিষ্যতে কোনওরকম হামলার সম্মুখীন যাতে আর না হয় দেশ। আর সেই কারণেই এই কঠোর নিরাপত্তা৷ সূত্রের খবর, ইসরো ১০০০টি ট্রান্সপন্ডার সরবরাহ করবে৷ ট্রান্সপন্ডার মারফত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জাহাজ এবং নৌকার উপরে নজরদারি চালাবে ইসরো৷

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, ভারতের সমস্ত উপকূলেই নজরদারি চালাবে ইসরো৷ স্যাটেলাইট মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ২০মিটারের বেশি দূরত্বে থাকা নৌকাগুলির উপর নজরদারি চালাবে এই স্যাটেলাইট ব্যবস্থা৷ ইতিমধ্যেই ৪৬টি উপকূলে বসে গিয়েছে বিশেষ ব়্যাডার৷ পাশাপাশি ৭৪টি স্বয়ংক্রিয় আইডি সিস্টেমও লাগানো হয়েছে ইতিমধ্যেই৷ সন্দেহজনক নৌকাগুলি সহজে চিহ্নিতকরণ করার জন্য নৌকাগুলিতে কালার কোড করা হয়েছে৷ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমানা বরাবর এই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে৷

উল্লেখ্য, ২০০৮র মুম্বই হামলার স্মৃতি এখনও টাটকা বিশ্ববাসীর কাছে৷ সেই সময় করাচি উপকূল থেকে ১০জন জঙ্গির একটি দল মুম্বই উপকূলে আসে৷ এরপরই সশস্ত্র সেই জঙ্গি বাহিনী তাজে হামলা চালায়৷ তারা প্রথমে পাকিস্তানের নৌকা চেপে ভারতের সীমানায় এসে পৌঁছয়৷ এরপর সেখান থেকে ভারতের মৎস্যজীবীদের নৌকায় চেপে মুম্বই উপকূলে এসে তাজে হামলা চালায়৷ এই সন্ত্রাস হামলায় প্রায় ১৬৬জনেরও বেশি সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল৷ এই ধরণের ভয়াবহ হামলা রুখতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অরগানাইজেশন৷

ভারতের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে মৎস্যজীবীদের জন্যে ইতিমধ্যে বায়োমেট্রিক কার্ড চালু করতে চলেছে কেন্দ্র৷ ইতিমধ্যেই ১৯.৯ লক্ষ মৎস্যজীবীদের মধ্যে ১৮.৬লক্ষ মৎস্যজীবীদের বায়োমেট্রিক কার্ড তৈরি হয়ে গিয়েছে৷

ভারতের উপকূলের দৈর্ঘ প্রায় ৭৫১৬কিমি৷ গুজরাট, মহারাষ্ট্র, গোয়া, কর্ণাটক, কেরালা, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গসহ দামান দিউ, লাক্ষাদীপসহ সমস্ত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির উপকূলেও এই বিশেষ ব়্যাডার স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে৷