নয়াদিল্লি: ভারত-চিন উত্তেজক পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার আচমকা লাদাখ সফরে গিয়ে সকলকে চমকে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এদিন লাদাখ সীমান্তের ফরওয়ার্ড বেসে গিয়ে রীতিমত যুদ্ধপ্রস্ততির আবহে জরুরি বৈঠকে বসেন সেনাবাহিনীর সঙ্গে। পাশাপাশি গালওয়ান উপত্যকায় ২০ জন ভারতীয় সেনার আত্মবলিদানের ভূয়সী প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর মুখে। শহিদ জওয়ানদের ত্যাগ যে বিফলে যেতে দেবে না ভারতবাসী তা চিনের নাম না করেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বুঝিয়ে দেন তিনি।

লাদাখের ১১ হাজার ফুট উচ্চতায় দাঁড়িয়ে সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে মোদী বলেন, “ভারত যে এখন চরম শক্তিশালী তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। আর এই কথা গোটা বিশ্ব জানে। ভারতীয় সেনাদের মনোবল এবং দক্ষতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সীমান্তে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পিছনে সরকার তিনগুণ ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। বায়ুসেনা, নৌসেনা ও স্থল বাহিনী, ভারতের সামরিক শক্তি এখন বিশ্বে শ্রেষ্ঠতা অর্জন করেছে।”

মোদী আরও বলেন, “ভারত বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করছে এবং আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আসছে। কারণ, সরকার তাঁদের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে অত্যন্ত সচেষ্ট এবং সচেতন।”

তিনি আরও বলেন,”বর্তমানে দেশের সীমান্ত অঞ্চল গুলির উন্নয়নে ব্যয় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। এর ফলে সেতু নির্মাণ ও রাস্তাঘাট তৈরি সহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলির দ্রুত উন্নতি ঘটছে।”

তিনি আরও জানান, সীমান্তবর্তী অঞ্চল গুলির উন্নয়নের অন্যতম বড় সুবিধা হল, দেশজুড়ে বিভিন্ন পণ্যপরিষেবা গুলি অল্প সময়ের মধ্যেই জনগণের কাছে পৌঁছতে পারছে। আর যারফলে উপকৃত হচ্ছেন ১৩০ কোটি দেশবাসী।

দেশসেবা, আত্মত্যাগ এবং জওয়ানদের বীরত্বের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “সীমান্তের অতন্দ্রপ্রহরীদের জন্যই রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যেতে পারেন প্রতিটি দেশবাসী। প্রতিনিয়ত অনেক কঠিন এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যেতে হয় সেনাবাহিনীকে। ফলে সরকার সমস্ত বীর জওয়ান ও তাঁদের প্রতি দায়বদ্ধ এবং কৃতজ্ঞ। সেনাবাহিনীর সুরক্ষায় সদা তৎপর সরকার।”

শুধু তাই নয় তিনি আরও জানান, চিনের সঙ্গে উত্তেজক পরিস্থিতির মধ্যই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বৃহস্পতিবার ৩৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৩ টি ফ্রন্টলাইন ফাইটার জেট, ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দিয়েছে।

এছাড়াও সরকার ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ(বিভিআর), এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম,ল্যান্ড রেঞ্জ ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল সিস্টেমের ২৪৮ টি এএসটিআরএ কেনার অনুমোদন দিয়েছে।

এছাড়াও তিনি সরকারের সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন নয়া উদ্যেগ গুলির কথা তুলে ধরেন। যেমন- চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ পদ সৃষ্টি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুদ্ধ এবং জাতীয় যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, ওয়ান পেনশন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সশস্ত্র বাহিনীর পরিবারের সুস্থতা নিশ্চিত করা প্রভৃতি।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ