নয়াদিল্লি : ১৫ ঘন্টা ধরে কর্পস কমান্ডার স্তরের বৈঠক, সীমান্তে স্থিতাবস্থা ফেরানোর অঙ্গীকার নিয়ে চিনা বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতি। এত কিছুর পরেও সীমান্ত থেকে সরতে নারাজ চিনা সেনা। স্বভাবসিদ্ধ দ্বিচারিতা নিয়ে ফের প্যাংগং লেক থেকে চিনা সেনার সরে যাওয়া নিয়ে উঠছে জল্পনা। সূত্রের খবর এখনই প্যাংগংয়ের ফিঙ্গারস থেকে সরতে ইচ্ছুক নয় চিনা সেনা।

জানা গিয়েছে, বেজিং গালওয়ান ভ্যালি, হট স্প্রিং ও গোগরা পোস্ট থেকে সেনা সরাতে রাজি হলেও, ফিঙ্গারস এলাকা থেকে নিজেদের দখল এখনই সরাতে চাইছে না। মূলত ফিঙ্গারস ৮ এলাকা এখনও চিনা দখলে। তবে ফিঙ্গার ফোরের কাছে ব্ল্যাকটপ ও গ্রিণটপ থেকে সেনা সরিয়ে নিয়েছে চিন বলে দাবি নয়াদিল্লির।

এর আগে, কর্পস কমান্ডার স্তরে ১৫ ঘন্টা ধরে টানা বৈঠক করার পর ভারত-চিন দুই দেশই নিজের নিজের অবস্থানে ফেরত যেতে রাজি হয়। বিশেষত চিনা সেনার ওপর নজর ছিল ভারতের। কারণ পুরোনো অবস্থানে ফেরত যেতে গররাজী ছিল বেজিং। অবশেষে মীমাংসা হয়েছে বলে জানানো হয়।

পূর্ব লাদাখের চুশুল বর্ডার আউট পোস্টে এই বৈঠক চলে। মঙ্গলবার অর্থাৎ ১৪ তারিখ সকাল সাড়ে এগারোটায় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক চলে বুধবার অর্থাৎ ১৫ তারিখ রাত দুটো পর্যন্ত। বৈঠকের মূল অ্যাজেন্ডা ছিল প্যাংগং লেক ও ডেপসাং এলাকা থেকে চিনা সেনার সরে যাওয়া। ওই এলাকায় বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই অতিরিক্ত বাহিনী, সাঁজোয়া গাড়ি, ও তাঁবু তৈরি করেছিল চিনা সেনা। সেইসব সরিয়ে নেওয়ার জন্যই বৈঠকে প্রথমে আবেদন করে ভারত। চতুর্থ বৈঠক ১৫ ঘন্টা ধরে চলে, অবশেষে সাফল্য পায় ভারত।

এরপর ১৫ ঘন্টা বৈঠকের পর লাদাখ সীমান্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য সওয়াল করে চিন। এদিন চিনের বিদেশ মন্ত্রক জানায় সীমান্ত সমস্যা নিয়ে যে কথা হয়েছে দুদেশের মধ্যে, তা যথেষ্ট সদর্থক। এবার থেকে দুই দেশই সীমান্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে একযোগে কাজ করবে। চিনের জাতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য গ্লোবাল টাইমস ট্যুইট করে এই খবর জানায়। চতুর্থ কমান্ডার স্তরের বৈঠকের পরেই সীমান্তে স্থিতাবস্থা এসেছে বলে মন্তব্য করা হয় ওই ট্যুইট বার্তায়।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।