নয়াদিল্লি : রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপে অবশেষে কি সুমতি চিনের, প্রশ্ন তুলছেন খোদ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাই। কারণ ১৫ ঘন্টা বৈঠকের পর যে বিবৃতি বেজিংয়ের তরফ থেকে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে লাদাখ সীমান্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য সওয়াল করেছে চিন। এদিন চিনের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে যে কথা হয়েছে দুদেশের মধ্যে, তা যথেষ্ট সদর্থক।

এবার থেকে দুই দেশই সীমান্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে একযোগে কাজ করবে। চিনের জাতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য গ্লোবাল টাইমস ট্যুইট করে এই খবর জানায়। চতুর্থ কমান্ডার স্তরের বৈঠকের পরেই সীমান্তে স্থিতাবস্থা এসেছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে ওই ট্যুইট বার্তায়।

বুধবার চিনা বিদেশ মন্ত্রককে উদ্ধৃত করে গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে বৈঠকের ফল নিয়ে সন্তুষ্ট বেজিং। দুই দেশের সেনাই পূর্বাবস্থায় ফিরে গিয়েছে। চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চুনইয়ং একথা জানান।

তিনি জানান, চিন আশা করে চিনা সেনা যেমন লাদাখে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করবে, তেমনই ভারতও সেই উদ্যোগ নেবে। এরআগে কর্পস কমান্ডার স্তরের টানা বৈঠকে অবশেষে ফলাফল মেলে। ১৫ ঘন্টা ধরে টানা বৈঠক করার পর ভারত-চিন দুই দেশই নিজের নিজের অবস্থানে ফেরত যেতে রাজি হয়।

বিশেষত চিনা সেনার ওপর নজর ছিল ভারতের। কারণ পুরোনো অবস্থানে ফেরত যেতে গররাজী ছিল বেজিং। অবশেষে মীমাংসা হয়। পূর্ব লাদাখের চুশুল বর্ডার আউট পোস্টে এই বৈঠক চলে। মঙ্গলবার অর্থাৎ ১৪ তারিখ সকাল সাড়ে এগারোটায় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক চলে বুধবার অর্থাৎ ১৫ তারিখ রাত দুটো পর্যন্ত।

বৈঠকের মূল অ্যাজেন্ডা ছিল প্যাংগং লেক ও ডেপসাং এলাকা থেকে চিনা সেনার সরে যাওয়া। ওই এলাকায় বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই অতিরিক্ত বাহিনী, সাঁজোয়া গাড়ি, ও তাঁবু তৈরি করেছিল চিনা সেনা। সেইসব সরিয়ে নেওয়ার জন্যই বৈঠকে প্রথমে আবেদন করে ভারত। চতুর্থ বৈঠক ১৫ ঘন্টা ধরে চলে, অবশেষে সাফল্য পেয়েছে ভারত।

তৃতীয় বৈঠক ১২ ঘন্টা ধরে চলেছিল। তবে প্যাংগং লেক ও ডেপসাং এলাকায় চিনা সেনার অবস্থান নিয়ে কোনও রফাসূত্র বেরিয়ে আসেনি। এরপরেই হস্তক্ষেপ করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। ইতিমধ্যেই প্যাংগং লেক থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে চিনা সেনার তাঁবু।

উপগ্রহ চিত্রেও সেই ছবি ধরা পড়েছে। চিনা সেনা সরে গিয়েছে ফিঙ্গার ফোর থেকেও, গত সপ্তাহেও এই এলাকাকে নিজের সীমান্ত অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করেছে চিন, যা কখনই মেনে নেয়নি ভারত।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ