হ্যামিলটন: পরতে-পরতে নাটক। চূড়ান্ত থ্রিলারে যবনিকা পতন হ্যামিলটনে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ম্যাচ টাই হওয়ার পর সুপার ওভারে ১৮ রান তাড়া করে রুদ্ধশ্বাস জয়। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবার ঐতিহাসিক সিরিজ জিতল টিম ইন্ডিয়া। ৪০ বলে ৬৫ রানের পর সুপার ওভারেও ব্যাট হাতে ভারতের ম্যাচ জয়ের নায়ক রোহিত শর্মা। শেষ ২ বলে ১০ রান করে দলকে কাঙ্খিত জয় এনে দিলেন ডেপুটি।

সিরিজের চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে তা জানা নেই, তবে আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে ভারতের প্রথম সুপার ওভার যে আগামিদিনে দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে, সেবিষয়ে সন্দেহ নেই। ম্যাচের বিশ্লেষণে বসলে টার্নিং পয়েন্ট অবশ্যই নিউজিল্যান্ড ইনিংসের অন্তিম ওভার। অন্তিম ওভারে ম্যাচ জয়ের জন্য কিউয়িদের প্রয়োজন ছিল ৯ রান। প্রথম বলেই পেল্লাই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ মোটামুটি মুঠোয় ভরে নিয়েছিলেন রস টেলর। ৪ বলে ২ রান প্রয়োজন। এমন সময় শামির বলে উইকেটের পিছনে ধরা পড়লেন ম্যাচের নায়ক হতে চলা কেন উইলিয়ামসন। পরের বলে শামির লেংথে ঠকে যান নতুন ব্যাটসম্যান টিম সেইফার্ট।

পরের বলেও পুনরাবৃত্তি। তবে এক্ষেত্রে বাই রান নিয়ে প্রান্ত বদল করতে সক্ষম হন টেলর। শেষ বলে ম্যাচ জয়ের জন্য কিউয়িদের প্রয়োজন ছিল ১ রান। কিন্তু টেলরকে ক্লিন বোল্ড করে ম্যাচ টাই রাখতে সমর্থ হন বঙ্গ পেসার। প্রথমবার টি-২০ ক্রিকেটে সুপার ওভারে উত্তীর্ণ হয় ভারতীয় দল।

গোটা ম্যাচ জুড়ে এদিন বল হাতে একেবারেই ছন্দহীন জসপ্রীত বুমরাহ সুপার ওভারেও ১৭ রান দিয়ে বসেন। ১৮ রান তাড়া করার লক্ষ্যে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন রোহিত শর্মা ও কেএল রাহুল। সুপার ওভারে শেষ ২ বলে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ১০ রান। অন-স্ট্রাইক রোহিত শর্মা পঞ্চম বলে লম্বা ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরণটা ১ বলে ৪ রানে নামিয়ে আনেন ‘হিটম্যান’। শেষ বলে স্ট্রেট ড্রাইভে ফের ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে স্মরনীয় জয় এনে দেন রোহিত। ম্যাচের সেরাও হয়েছেন তিনি।

এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে কিউয়িদের ১৮০ রানের টার্গেট দেয় টিম ইন্ডিয়া। ভারতের হয়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে সফল রোহিত ৪০ বলে খেলেন ধুন্ধুমার ৬৫ রানের ইনিংস। এছাড়া ২৭ বলে ৩৮ রান আসে অধিনায়কের ব্যাট থেকে। জবাবে শুরুটা ভালোই করেন মার্টিন গাপ্তিল। তাঁর ২১ বলে ৩১ রানের পর দলকে ম্যাচ জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন অধিনায়ক উইলিয়ামসন। কিন্তু শেষ ওভারে তাঁর অধিনায়কোচিত ৪৮ বলে ৯৫ রানের ইনিংসের যবনিকা পড়তেই জেতা ম্যাচ হারিয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড।