কলকাতা: যেমনটা প্রত্যাশিত ছিল, রবিবাসরীয় ইডেন গার্ডেন্সে ঘটল ঠিক তেমনটাই। মুশফিকুরের ব্যাটে ভর করে ইনিংস হারের লজ্জা এড়ানোই তৃতীয়দিন লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ভারতীয় বোলাররা সেই সুযোগটাও দিতে রাজি ছিলেন না।

রবিবার প্রথম সেশনে এক ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের বাকি তিন উইকেট তুলে নিয়ে ইনিংস জয় নিশ্চিত করল কোহলি ব্রিগেড। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে পুনরায় ব্যাট করতে নামলেন না মহমুদুল্লাহ। ৪৩ রানে বাংলাদেশের বাকি ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ইনিংস ও ৪৬ রানে ঐতিহাসিক পিঙ্ক বল টেস্টে জয় ছিনিয়ে নিল ভারত।

ললাটলিখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল শনিবারই। রবিবার সকালে সেটাতে যেন সিলমোহর দিতে মাঠে নামল ভারতীয় দল। ম্যাচ হার বাঁচানো সম্ভব না জেনে মুশফিকুরের নেতৃত্বে অন্তত ইনিংস হার বাঁচাতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি বাংলাদেশের টেল-এন্ডাররা। ৬ উইকেটে ১৫২ রানে খেলা শুরু করে এদিন কোনও রান যোগ না করেই সপ্তম উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের। দিনের তৃতীয় ওভারে উমেশ যাদবের লাফিয়ে ওঠা বল এবাদত হোসেনের ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে স্লিপে অধিনায়ক কোহলির আস্তানায়। এরপর অষ্টম উইকেটে আল আমিন হোসেনের সঙ্গে জুটিতে ৩২ রান যোগ করে আউট হন শেষ ভরসা মুশফিকুর।

চোটের কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে মাহমুদুল্লাহ ব্যাট হাতে নামতে না পারায় মুশফিকুর ফিরতেই বাংলাদেশের ইনিংস হার নিয়ে সমস্ত সংশয় দূর হয়ে যায়। দিনের নবম ওভারে যাদবের ডেলিভারি আল আমিনের ব্যাট ছুঁয়ে ঋদ্ধির হাতে জমা পড়তেই যবনিকা পড়ে পিঙ্ক বল টেস্টের। তাও আবার আড়াই দিনেরও কম সময়ে। আর এই জয়ের সঙ্গে একাধিক নজির জমা হল ভারতীয় দলের রেকর্ডবুকে। প্রথম টেস্ট দল হিসেবে টানা চার ম্যাচ ইনিংসে জিতে নয়া রেকর্ড গড়ল বিরাটের ভারতের। পাশাপাশি টানা সাতটি টেস্ট ম্যাচ জিতে নয়া নজির গড়ল ভারতীয় দল। টানা ম্যাচ জয়ের নিরিখে এটাই সর্বকালের রেকর্ড ভারতীয় দলের।

ক্রিকেটের নন্দনকাননে বিরাটের শতরান প্রাপ্তি গতকাল তো ছিলোই, অধিনায়ক হিসেবে বিরাটের পালকে রবিবার জুড়ল আরও কয়েকটি পালক। অধিনায়ক হিসেবে টানা ১২টি সিরিজ জয়ের পাশাপাশি রেকর্ড ৪টি সিরিজে তাঁর নেতৃত্বে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করল ভারতীয় দল। দ্বিতীয় টেস্ট জিতে সিরিজ জয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্টের খাতায় আরও ৬০ পয়েন্ট যোগ হল ভারতের। প্রথম ৭ ম্যাচ থেকে পুরো পয়েন্ট (৩৬০) সংগ্রহ করে শীর্ষস্থানে অবস্থান মজবুত করল বিরাটের ভারত। ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা ল্যাঙ্কি পেসার ইশান্ত শর্মা। সিরিজ সেরার পুরস্কারও তাঁরই ঝুলিতে।