নয়াদিল্লি: অবশেষে ডিজিটাল স্ট্রাইক করল মোদী সরকার। চিনকে গায়ে নয়, ভাতে মারতে সোমবার রাত থেকে ভারতে নিষিদ্ধ করা হল চিনের সঙ্গে সম্পর্কিত ৫৯টি চিনা মোবাইল অ্যাপ।

সোমবার রাত থেকে নিষিদ্ধ হওয়া এই অ্যাপগুলি স্মার্টফোন থেকে মুছে ফেলার জন্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে দেশবাসীকে। কেন্দ্রীয় তথ্য সম্প্রচার ও বৈদ্যুতিন মন্ত্রকের তরফে এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়। এই মর্মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে একটি নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই নির্দেশিকাতে টেলিকম সংস্থাগুলিকে ওই অ্যাপগুলিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্যে বলা হয়েছে। রাতেই যাতে সরে যায় সেই বিষয়েও আবেদন করা হয় বলে জানা যায়।

কেন্দ্রের অভিযোগ, এই ৫৯টি অ্যাপ ভারতের ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি করছে। অ্যাপ ব্যবহারকারীর নাম,ঠিকানা,সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট,নানারকম গুরুত্বপূর্ন তথ্যের উপর গোপনে নজরদারী চালায় এই অ্যাপ গুলি। এমনকী, ভারতের সার্বভৌমত্ব, সৌভ্রাতৃত্বকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। ভারতের প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তাকেও নষ্ট করার চেষ্টা করছে এই অ্যাপগুলি।

তাই এই ৫৯টি অ্যাপের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপাল কেন্দ্র সরকার। চিনের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপ নিসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁদের কথায়,এটা কেন্দ্রের ডিজিটাল স্ট্রাইক। এই নির্দেশিকার জেরে চিনের অর্থনীতি ব্যপক ধাক্কা খাবে। এক কথায়, বেজিংকে ভাতে মারতে প্রস্তুত সরকার।

একে করোনা তার উপর গত দুমাস ধরে নানা ইস্যুতে ভারত-চিনের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছিল। এরই মধ্যে গত ১৫ জুন তা চরম আকার ধারন করে। লাদাখের গালওয়ানে ভারত-চিন সংঘর্ষে শহীদ হন ২০জন ভারতীয় জওয়ান। এরপরই দেশজুড়ে চিনাদ্রব্য বয়কটের আন্দোলন আরও জোরদার হয়।

শুধু তাই নয়, বেশকিছু দিন ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে চিনের তথ্য হ্যাকের বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ আসতে শুরু করেছিল। এই বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের কাছে ধরা পড়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

জনপ্রিয় চিনা অ্যাপ টিকটক, হেলো, লাইক, ভিগো ভিডিও, ইউসি ব্রাউসার সহ একাধিক অ্যাপের আড়ালে ভারতীয়দের গোপন তথ্য পাচার হচ্ছে চিনে। আর এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ১৩০ কোটি দেশবাসীর স্বার্থ এবং সুরক্ষার কথা ভেবে সোমবার রাত থেকে ৫৯টি চিনা অ্যাপ মোবাইল ফোন থেকে ব্লক করে দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। এই ব্যাপারে মোবাইল কোম্পানি গুলিকেও সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

শুধু ভারত নয়,চিনের তথ্য চুরির ব্যাপারে এর আগেও বহুদেশ থেকে এসেছে বিস্তর অভিযোগ তারপরেও শোধরাইনি চিন।

এই বিষয়ে আমেরিকার এক সাইবার বিশেষজ্ঞ ও.ব্রাইন জানিয়েছেন, ফেসবুক,হোয়াটস অ্যাপের মতোই জনপ্রিয় এই অ্যাপগুলি ব্যবহারের ফলে উপভোক্তার যাবতীয় গুরুত্বপূর্ন নথি ফাঁস হয়ে যায় চিনের কাছে। যারফলে গুরুত্বপূর্ন এই,তথ্যগুলি সংরক্ষন করে পরিবর্তীকালে তা দিয়ে ভয় দেখিয়ে কোনও কাজ হাসিল করতে পারে চিন। আর প্রতিনিয়ত তাই করে আসছে কমিউনিস্ট চিন। গোটা বিশ্বের উপর অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব কায়েম করাই যেন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে চিনের।

তবে ভারত ইতিমধ্যে চিনের বিভিন্ন সংস্থার একাধিক বরাত বাতিল করেছে রেল ও বিএসএনএল। এরপরই ৫৯টি অ্যাপ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। যা চিনকে কার্যত বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলবে।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV