নয়াদিল্লি-ঢাকাঃ  দ্বিতীয়বার মোদীর মন্ত্রিসভায় নেই সুষমা স্বরাজ। তাঁর বদলে বিদেশমন্ত্রকের দায়িত্বে নিয়ে আসা হয়েছে এস জয়শঙ্করকে। বিদেশমন্ত্রকের দায়িত্ব হাতে পেয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো সক্রিয় হয়ে উঠেছেন জয়শঙ্কর। গত দু’দিনে নানা সমস্যা নিয়ে ট্যুইটারে তাঁর দ্বারস্থ হয়েছেন সাধারণ মানুষ। চটজলদি জবাবও পেয়েছেন তাঁরা। ট্যুইটারে বিদেশমন্ত্রীর এমন তৎপরতায়, পূর্বসূরী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে তাঁর মিল খুঁজে পেয়েছেন অনেকে।

একদিকে যখন নিজের পূর্বসূরির ধারা বজায় রাখার সবরকম চেষ্টা করছেন তেমনই মোদীর বিদেশনীতিকেও আরও মজবুত করার টার্গেট নিয়েছেন এস জয়শঙ্কর। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত হয় সেজন্যে কাজ করছেন। প্রতিটি দেশকে মোদী সরকারের বার্তা পাঠাচ্ছেন। তেমনই বাংলাদেশ বিদেশমন্ত্রীকে পাশে থাকার বার্তা পাঠিয়েছেন জয়শঙ্কর।

ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশ গভীর। শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উভয়ই দু’দেশের সম্পর্ককে আরও যাতে মজবুত করা যায় সেলক্ষ্যে কাজ চালাচ্ছেন। মোদী সরকারের আমলে একাধিক বিষয়ে ভারত এবং বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেল থেকে জলপথ, সন্ত্রাসবাদ সহ সীমান্ত সমস্যা। একাধিক বিষয়ে দুদেশ একাধিক চুক্তি করেছে। দায়িত্বে বসেই সেই সম্পর্কেই আরও একবার ঝালিয়ে নিতে চাইছেন বিদেশমন্ত্রকের প্রাক্তন এই সচিব।

বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে একটি চিঠি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী। যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ককে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্যমাত্রা দিতে চেয়েছিলেন। আর নির্ধারিত লক্ষ্যেই সেই সম্পর্ককে ভারত নিয়ে যেতে চায় বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন জয়শঙ্কর। নিকটতম প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সম্পর্ক গভীর সম্পর্কে রূপ নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আর তা সবটাই সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে।

বিদেশমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন যে, সম্প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ফের ক্ষমতার মসনসে এসেছেন হাসিনা। তেমনই গত মাসে ভারতে বিজেপি এনডিএ সরকার জনগণের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। এই দুই ঘটনা দুই দেশের সুদৃঢ় অংশীদারত্বের প্রতি উভয় দেশের জনগণের ব্যাপক সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য তাঁর।

একই সঙ্গে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ সফর করবেন বলে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীকে জানিয়েছেন এস জয়শঙ্কর।

উল্লেখ্যম রীতিমত চমক দিয়ে মন্ত্রিসভায় প্রাক্তন বিদেশ সচিবকে নিয়ে এসেছেন মোদী ও অমিত শাহ। আর প্রত্যাশামতই তাঁকে দেওয়া হয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। দীর্ঘদিন বিচক্ষণতার সঙ্গে বিদেশ মন্ত্রক সামলে এসেছেন সুষমা স্বরাজ। ভারতীয়রা বিশ্বের যে প্রান্তেই বিপদে পড়ুন না কেন, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সুষমা। এবর আর মন্ত্রিসভায় নেই তিনি। অসুস্থতার কারণে সরে দাঁড়িয়েছেন সরকার থেকে। তাই তাঁর বিকল্প খুঁজতে বেগ পেতে হচ্ছিল বিজেপিকে। আর তাছাড়া, বিদেশনীতি মোদীর এক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। গত পাঁচ বছরে সেটাই দেখা গিয়েছে। বিদেশনীতির শক্তি দিয়েই উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে এক রাতেই পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে এনেছিল ভারত। দেশ-বিদেশ সফর করে তিনি নিজেও সম্পর্ক গঠন করেছেন বিচক্ষণতার সঙ্গে।

আর সে কারণেই এস জয়শঙ্করকে বেছে নেওয়া হয়। আর সেখানে বসেই একের পর এক মাস্টারস্ট্রোক মারছেন তিনি।