নয়াদিল্লি: বন্ধু দেশ চিনের মদত নিয়ে আবারও কাশ্মীর ইস্যুকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে মুখ পুড়ল পাকিস্তানের। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ভারতের কাশ্মীর প্রসঙ্গটি তুলেছিল চিন। চিন কাশ্মীর নিয়ে আলোচনার দাবি জানায়। কিন্তু, কাশ্মীর ইস্যুটি দ্বিপাক্ষিক বলে জানায় ফ্রান্স-সহ অন্যান্য সদস্য দেশ। মুহূর্তে কাশ্মীর প্রসঙ্গে আলোচনার দাবিও খারিজ হয়ে যায়।

ভারতকে প্যাঁচে ফেলতে বরাবরই চিনকে ঢাল করে এসেছে পাকিস্তান। এবারও তার অন্যথা হয়নি। চিনও বন্ধু পাকিস্তানকে ভারতের বিরুদ্ধে একরোখা মনোভাব নিয়ে চলতে বরাবরই সমর্থন জুগিয়ে চলে। এবার রাষ্ট্রসংঘে ফের চিনকে দিয়ে কাশ্মীর প্রসঙ্গে আলোচনার দাবি করে পাকিস্তান। বন্ধু পাকিস্তানের আবদার মেনে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক বক্তব্য পেশ করে চিন। একইসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনারও দাবি তোলে বেজিং। তবে রাষ্চ্রসংঘের অন্যান্য সদস্য দেশ বিষয়টিতে আমল দিতে নারাজ। প্রত্যেক দেশই জানায কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক ব্যাপার। যদি কোনও সমস্যা থেকে থাকে তবে তা ওই দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমেই মিটিয়ে নেবে। এব্যাপারে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে আলোচনার প্রয়োজন নেই।

রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশগুলির অবস্থানে স্বভাবতই সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারত। একইসঙ্গে সেই দেশগুলিকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা যে ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছিলেন সব অভিযোগই ভিত্তিহীন। আমরা আনন্দিত যে সেই অভিযোগগুলিকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করা হয়নি।’

জম্মু-কাশ্মীরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব পাকিস্তান৷ চিনও একাধিকবার এবিষয়ে নাক গলানোর চেষ্টা করেছে৷। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হয়৷ সেই বৈঠকে তৃতীয়বারের জন্য এই প্রসঙ্গ তুলল পড়শি দেশ চিন। যদিও ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা কোনও অভিযোগই বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়নি রাষ্ট্রসংঘের বৈঠকে।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসংঘের বৈঠক শেষে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরুদ্দিন আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা কাশ্মীর ইস্যুটিকে ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক ইস্যু হিসেবেই মেনে নিয়েছেন। কোনও সমস্যা থাকলে দ্বিপাক্ষিক স্তরেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত বলেও মনে করেছেন তাঁরা। তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান ভুল তথ্য দিয়ে বাকি দেশগুলিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের ‘সব পরিবেশের বন্ধু’ চীনের দাবিতেই এই বৈঠক বলে রাষ্ট্রসংঘ সূত্রে খবর। বৈঠকের পরে রাষ্ট্রসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে একটি বৈঠক করেছি। জম্মু কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য রাখার জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের বিষয়টি সবসময়ই রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদের মাথায় ছিল। আমরা সেখানে উত্তেজনার পরিস্থিতিও দেখেছি। সেই কারণেই আজ সবপক্ষের মন্তব্য সংক্ষিপ্তসারে শোনা হয়েছিল।”

বন্ধু দেশ চিনের সঙ্গে কথা বলে ভারতের বিরুদ্ধে সওয়াল করার জন্য তদ্বির চালান পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। বরাবরের বন্ধু চিনের হাত ধরে ফের রাষ্ট্রপুঞ্জের আসরে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলার জন্য তদ্বির করে ইসলামাবাদ। তবে আপাতত পাকিস্তানের সেই প্রচেষ্টার ইতি।