প্রসেনজিৎ চৌধুরী: দুইদিকে দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র৷ মাঝে ক্ষুদ্র ড্রাগন দেশ-ভুটান৷ সেই দেশের তৃতীয় জাতীয় নির্বাচনের প্রাথমিক পর্বের ভোট নেওয়া শুরু হল৷ ভোট বাক্সে বন্দি হচ্ছে একটাই উত্তর ভারত না চিন কার প্রভাব বেশি হবে এবার৷ ভারতের অনেক কূটনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, ভুটানের সাথে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন থেকে খুব বেশি দূরে নেই চিন। সেটা হতে পারে আগামী সরকার গঠনের পরেই৷

দীর্ঘ সাত দশকের বেশি সময় ধরে ভুটান হল ভারতের অন্যতম বন্ধু রাষ্ট্র৷ কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ডোকলাম উপত্যকায় চিনা সেনার অবস্থান নিয়ে তৈরি জটিলতার মাঝে ভুটানের কূটনৈতিক সমীকরণ মোড় নিতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে৷ সেই অর্থে এবারের ভোট গুরুত্বপূর্ণ৷

এএফপি জানাচ্ছে, ভুটানি সংবিধান অনুসারে প্রাথমিক রাউন্ডে অংশ নিয়েছে চারটি দল- পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিডিপি), ড্রুক ফুয়েনসুম শোগপা (ডিপিটি), ড্রুক নিয়ামরুপ শোগপা (ডিএনটি),ভুটান কুয়েন নিয়াম পার্টি (বিকেপি)। এদের মধ্যে সর্বাধিক ভোট পাওয়া দুটি দল আগামী ১৮ অক্টোবরের চূড়ান্ত নির্বাচনে অংশ নেবে৷ ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষমতাসীন দল পিডিপি তাদের শক্তি বজায় রাখবে৷ আর প্রধানমন্ত্রী পদেই থাকতে পারেন শেরিং টোবগে৷ তবে বিরোধী ডিপিটি দল লড়াই করবে প্রবল৷

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এবারের ভুটানি পার্লামেন্টের নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে৷ রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই নির্বাচনে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ভারত। আর তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী চিন চেষ্টা চালাচ্ছে ভুটানের উপর প্রভাব বাড়িয়ে নিতে৷ যদিও বর্তমানে চিনের সাথে ভুটানের কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে বেজিং চায় সেই সম্পর্ক তৈরি করতে৷ নির্বাচনের আগে চিনের উপ বিদেশমন্ত্রী কোং শুয়ানইউ সফর করেন ভুটান৷ বেজিংয়ের এই কূটনৈতিক বার্তায় চিন্তিত হয়েছে নয়াদিল্লি৷

ভুটানি সংবাদপত্র কুয়েনসেল জানাচ্ছে, গত বছর ডোকলামে চিন ও ভারতীয় মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছিল৷ সেখানে ভারতকে পুরোপুরি সমর্থন করে ভুটান। সেই কারণে ত্রিদেশীয় সংযোগ কেন্দ্র থেকে সরতে হয়েছিল চিনকে৷ তবে অভিযোগ উঠছে, ডোকলামে চিনা সেনার আনাগোনা চলছেই৷

চিনা সংবাদ সংস্থা জিনহুয়ার খবর, বহু দশক ধরে ভুটান অর্থনৈতিকভাবে নয়াদিল্লির উপর ব্যাপক মাত্রায় নির্ভরশীল৷ অনেকেই চাইছেন এই নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে৷ আর সেটাই হয়ে দাঁড়াচ্ছে অন্যতম ইস্যু৷ যার প্রভাব পড়বে ভোটে৷

বিবিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে নয়াদিল্লির তরফে থিম্পুকে দেওয়া কেরোসিন ও রান্নার গ্যাসের উপর ভর্তুকি তুলে নেওয়া হয়৷ এর জেরে ভুটানে ব্যাপক সঙ্কট ও ভারত বিরোধী অবস্থান শুরু হয়েছিল৷ চাপে পড়ে নয়াদিল্লি ফের সেই ভর্তুকি বহাল রেখেছে৷ তবে নয়াদিল্লির জন্য এটা স্বস্তির বিষয় যে, ভুটানের সব বড় রাজনৈতিক দলগুলি ভারত-ভুটানের সম্পর্ককেই গুরুত্ব দেয় বেশি৷ এখানে চিনকে দেখা হয় সুযোগ সন্ধানী হিসেবে৷