পোচেস্ট্রুম: বোলিং-ফিল্ডিংয়ে দুরন্ত বাংলাদেশ। আন্ডারডগ হিসেবে শুরু করে ফাইনালে ভারতকে স্বল্প রানে গুটিয়ে দিল তারা। ১৭৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাপ জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু পদ্মাপাড়ের দেশের। যশস্বীর নেতৃত্বে ভালো রানের দিকেই এগোচ্ছিল ভারতের ইনিংস। কিন্তু শতরান থেকে ১২ রান দূরে দাঁড়িয়ে যশস্বী ফিরতেই ছন্দপতন। তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ল প্রিয়মদের ব্যাটিং লাইন-আপ।

মাত্র ২১ রানে শেষ ৭ উইকেট খোয়ালো ভারত। টুর্নামেন্টে প্রথমবার পুরো ওভার ব্যাট করতে ব্যর্থ ফেভারিট ভারত। ৪৭.২ ওভারে মাত্র ১৭৭ রানেই গুটিয়ে গেল মেন ইন ব্লু’র ইনিংস।

শনিবার রাতে বৃষ্টি হওয়ায় পোচেস্ট্রুমে ফাইনালের পিচ বেশ কিছুটা আর্দ্র ছিল। সেই সুবিধা কাজে লাগাতে এদিন টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক আকবর আলি। নতুন বলে উইকেট তুলে নিতে না পারলেও ভারতের রানকে বেঁধে রেখেছিলেন বাংলাদেশ বোলাররা। যশস্বীদের ভয়ঙ্কর হওয়ার সুযোগ দিচ্ছিলেন না শরিফুল, অভিষেকরা। দলীয় ৯ রানে দিব্যাংশ সাক্সেনার উইকেট খোয়াতে হলেও দ্বিতীয় উইকেটে দলের জন্য বড় রানের ভিত গড়ে দেন যশস্বী জয়সওয়াল ও তিলক বর্মা জুটি।

জুটিতে ৯৪ রানের অবদান রেখে ব্যক্তিগত ৩৮ রানে ফিরে যান বর্মা। অধিনায়ক প্রিয়ম গর্গ ৭ রানে আউট হলেও ধ্রুব জুরেলকে নিয়ে টানা চতুর্থ অর্ধশতরান পূর্ণ করে শতরানের দিকে ধীরে-ধীরে এগোচ্ছিলেন যশস্বী। কিন্তু শতরান থেকে ১২ রান দূরে দাঁড়িয়ে হঠাতই ছন্দপতন। ব্যক্তিগত ৮৮ রানে শরিফুল ইসলামের ডেলিভারিতে ঠকে যান তিনি। ভারতের রান তখন ৩৯.৫ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৬। যশস্বী ফিরতেই আঁধার ঘনিয়ে আসে ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপে।

শরিফুলের ওই ওভারেই শূন্য রানে ফেরেন সিদ্ধেশ বীর। এরপর রানিং বিটুইন দ্য উইকেট আঙ্কোলেকরের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন ধ্রুব জুরেল। শরিফুল, তানজিম, অভিষেকদের দাপটে দু’অঙ্কের রানে পৌঁছতে ব্যর্থ ভারতের ব্যাটিং অর্ডারের শেষ ছ’জন ব্যাটসম্যান। বড় ম্যাচের চাপের কাছে মাথা নোয়ালেন ভারতের টেল-এন্ডার ব্যাটসম্যানরা। গোটা টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে দুরন্ত পারফর্ম করে আসা ভারতীয় দল ফাইনালে থেমে দু’শোর অনেকটা আগেই। স্কোরবোর্ডে মাত্র ১৭৭ রান তুলতে সমর্থ হল নীল জার্সিধারীরা।

বল হাতে দাপট দেখালেন বাংলাদেশী সিমাররা। ফাইনালে তিন সিমারে মাঠে নামার সুফল পেল আকবর আলির দল। ৯ ওভারে ৪০ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিলেন অভিষেক দাস। ২টি করে উইকেট নিলেন শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান। মাত্র ১টি উইকেট নিলেও বল হাতে সবচেয়ে কৃপণ বাঁ-হাতি স্পিনার রাকিবুল ইসলাম। ১০ ওভারে মাত্র ২৯ রান খরচ করলেন তিনি।

বোলারদের গড়ে দেওয়া মঞ্চে প্রথমবারের ট্রফি জয়ের গুরুদায়িত্ব এবার বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের। পক্ষান্তরে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে ভারতীয় দলের সাহারা হয়ে কী উঠতে পারবেন দুরন্ত ফর্মে থাকা বোলাররা, অপেক্ষা আর কয়েকঘন্টার।