তিরুঅনন্তপুরম: দক্ষিণ আফ্রিকা-এ দলের বিরুদ্ধে চার দিনের প্রথম বেসরকারি টেস্ট তিন দিনেই পকেট পুরতে পারতো ভারত। প্রকৃতি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় ম্যাচ গড়ালো চতুর্থ দিনে। যদিও তাতে ভারতীয়-এ দলের জয়ের সম্ভাবনা ফিকে হয়নি এতটুকু।

গ্রিনফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে নিরিখে ভারতের থেকে ১৩৯ রানে পিছিয়ে পিছিয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত অন্তরে উইকেট হারাতে থাকে প্রোটিয়ারা। ৫ উইকেটের বিনিময় ১২৫ রান তুলে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করে এডেন মার্করামরা। তখনও ভারতের থেকে ১৪ রানে পিছিয়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

বৃষ্টির জন্য তৃতীয় দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ে শুরু করা যায়নি। প্রথম দুটি সেশনের বেশিরভাগ সময় বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার পর মাঠ খেলার উপযুক্ত করে তোলা গেলে দিনের শেষ বেলায় ম্যাচ পুনরায় শুরু হয়। তার পর থেকে ব্যাট করতে নেমে প্রোটিয়ারা মন্দ আলোয় দিনের মতো খেলা বন্ধ হওয়ার সময় ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান তুলেছে। অর্থাৎ ভারতের থেকে আপাতত ৪০ রানে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষদিনে প্রোটিয়াদের বাকি ১টি উইকেট দ্রুত তুলে নিতে পারলে প্রথম বেসরকারি টেস্টে জয় তুলে নিতে বিশেষ সময় নষ্ট হওয়ার কথা নয় ভারতীয়-এ দলের।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে জুবেইর হামজা ৪৪ রান করেন। হেনরিচ ক্লাসেন আউট হন ব্যক্তিগত ৪৮ রানে। উইয়ান মাল্ডার ৪৬ রান করে রিকি ভুইয়ের থ্রো’য়ে রান-আউট হন। বাকিদের মধ্যে দু’অঙ্কের রান বলতে জোন্দোর ১০।

শাহবাজ নদিম দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের হয়ে সর্বাধিক ৩টি উইকেট নিয়েছেন। ব্যাট হাতে অপরাজিত অর্ধশতরান করার পর বল হাতে ২টি উইকেট দখল করেছেন জলজ সাক্সেনা। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মহম্মদ সিরাজ, শার্দুল ঠাকুর ও কৃষ্ণাপ্পা গৌতম।

উল্লেখ্য, গ্রিনফিল্ডের স্পোর্টিং পিচে গুরুত্বপূর্ণ টস যেতে ভারত। তাজা বাইশগজে প্রোটিয়াদের প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল। ভারতীয় বোলারদের সম্মিলিত আক্রমণে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে অল-আউট হয়ে যায় মাত্র ১৬৪ রানে। মার্কো জানসেন ৪৫ ও ডেন পিয়েডট ৩৩ রান করেন। ভারতের হয়ে প্রথম ইনিংসে ২৯ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট নেন শার্দুল ঠাকুর। ৬৪ রান খরচ করে ৩টি উইকেট তুলে নেন কৃষ্ণাপ্পা গৌতম। ৩৭ রানের বিনিময়ে ২টি উইকেট শাহবাজ নদিমের। ২০ রানে ১টি উইকেট নেন মহম্মদ সিরাজ।

পালটা ব্যাট করতে নেমে ভারত তাদের প্রথম ইনিংস শেষ করে ৩০৩ রানে। অল্পের জন্য শতরান হাতছাড়া করেন গিল। ১৩টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৯০ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে আউট হন শুভমন। জলজ সাক্সেনা অপরাজিত থাকেন ব্যক্তিগত ৬১ রানে। এছাড়া কেএস ভরত ৩৩, শার্দুল ঠাকুর ৩৪, ঋতুরাজ গায়কোয়াড় ৩০ ও রিকি ভুই ২৬ রান করে আউট হন।