স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে এবার চতুর্মুখী লড়াই। বাম, কংগ্রেস, তৃণমূল ও বিজেপি। এবার এই কেন্দ্রে ভোট জমে উঠবে বলেই আশা রাজনৈতিক মহলের। আগের বার এই কেন্দ্রে বিজয়ী হয় সিপিআইএম প্রার্থী। দ্বিতীয় স্থানে ছিল কংগ্রেস এবং তার পরেই ছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

কিন্তু এবার একটা মজার লড়াই শুরু হয়েছে এই কেন্দ্রে৷ সে লড়াই নামের লড়াই৷ বুধবার এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়ন পত্র প্রদান করলেন দুই নির্দল প্রার্থী। একজনের নাম হুমায়ন কবীর ও অন্যজনের নাম আবু হেনা।

কাকতালীয় ভাবে এই মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থীর নামও আবু হেনা, অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থীর নাম হুমায়ন কবীর। দুই নির্দল প্রার্থীর নামের সঙ্গে বিজেপি প্রার্থী ও কংগ্রেস প্রার্থীর নামের মিল থাকায় রাজনৈতিক মহলের ধারণা প্রভাব পড়তে পারে লোকসভা নির্বাচনে। আর এই ভোট কাটাকাটির খেলায় কিছুটা হলেও লাভবান হতে পারে রাজ্যের শাসক দল ও বামেরা।

এক নির্দল প্রার্থী হুমায়ন কবীর মুর্শিদাবাদ লোকসভার লালবাগের রৌশনবাগের রঞ্জিত পাড়ার বাসিন্দা। তিনি ব্যবসার কাজে যুক্ত। পরিবারে দুই ছেলে ও স্ত্রী রয়েছেন।

অন্যদিকে আর এক নির্দল প্রার্থী আবু হেনা রানীতলা থানার বালিগ্রাম বালিয়ানগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি লালবাগের নেতাজি সুভাষ ইউনিভার্সিটির ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। বাড়িতে বাবা, মা ও বোন রয়েছে। একই দিনে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস ও বিজেপি এই দুই প্রার্থীর হুবহু একই নামে নির্দল প্রার্থীরা মনোনয়ন দাখিল করল তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

কংগ্রেস ও বিজেপির অভিযোগ এই দুই নির্দল প্রার্থী দাঁড় করানোর পেছনে রয়েছে আসলে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল ইচ্ছাকৃত ভাবে কংগ্রেস ও বিজেপির প্রার্থীর নামে দুইজন নির্দল প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে৷ যাতে মানুষ ভুলবশত কংগ্রেস ও বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিতে গিয়ে নির্দলে ভোট ফেলে। আর এই ভোট কাটাকাটিতে লাভবান হয় শাসক দল।

যদিও শাসক দল এই অভিযোগ মানতে নারাজ৷ তাদের দাবি গণতান্ত্রিক অধিকার সবার আছে। যে কোউ ভোটে দাঁড়াতে পারেন৷ এই ঘটনা কাকতালীয় হলেও এর পেছনে শাসক দলের কোন রকম হাত নেই।

এই মনোনয়নের বিষয়ে নির্দল প্রার্থী আবু হেনাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, আমি কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়নি৷ আমি নিজের ইচ্ছেতেই নির্দল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পত্র প্রদান করেছি। আমার অনেকদিন থেকেই ইচ্ছে ছিল লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ায়।

অন্যদিকে আরও এক নির্দল প্রার্থী হুমায়ন কবীর জানান নিজের ইচ্ছেতেই নির্বাচনে লড়াইয়ের কথা ভেবেছি, তাই মনোনয়ন পত্র জমা দিলাম।