দিন দিন আত্মহত্যার প্রবনতা বাড়ছে ! এর কারণ কি? জানাচ্ছেন বিশিষ্ট মনোবিদ ডা. প্রতীপ দে ৷
সন্তানকে বিষপান করিয়ে বা আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার পর মায়ের আত্মহত্যা কিংবা চলন্ত মেট্রোয় ঝাঁপ দিয়ে কোনো তরুন বা তরুনীর আত্মহত্যা অথবা কোনো ব্যাক্তি তাঁর ঋণের টাকা শোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন- আজকাল এই ধরনের ঘটনা প্রতিদিনই আমরা সংবাদের শিরোনামে দেখতে পাই ৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব মতে, সারা বিশ্বে বর্তমানে প্রতি বছর গড়ে দশ লাখ লোক আত্মহত্যা করছে। আর যারা আত্মহত্যা করবার চেষ্টা করে কোনো-না-কোনো কারণে ব্যর্থ হয়, তাদের সংখ্যা আত্মহত্যাকারীদের ২০ গুণ ৷ আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশী পূর্ব-ইউরোপের দেশগুলোতে এবং সবচেয়ে কম ল্যাটিন আমেরিকায় ৷ মনোবিদরা মনে করেন, কোন মানুষ তখনই আত্মহত্যা করতে উদ্যোত হন যখন তার নিরাশা অত্যন্ত চরমে পৌঁছায় এবং যখন আশার কোনো আলো তার হৃদয়ে অনুভূত হয় না ৷

মনোবিদরা মনে করেন নিম্নলিখিত কারনগুলির জন্য মানুষ আত্মহত্যা করেন
অতিরিক্ত স্ট্রেস
বংশগত কারন
সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক চাপ বৄদ্ধি
ফ্যামিলি সাপোর্টের অভাব
চাহিদা বৄদ্ধি

এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যারা আত্মহত্যা করেন তাদের ৯০ শতাংশই কোনো না কোনো ভাবে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ৷ তাদের ধারণা, এই ৯০ শতাংশের একটা বড় অংশই ব্যক্তিগত ও সামাজিক চাপে পড়ে মানসিক ভারসাম্য হারায় ৷ আধুনিক বিশ্বের বহু দেশেই আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে ধরা পড়লে শাস্তি পেতে হয় ৷ তবে অতীতে কোনো কোনো দেশ ও সংস্কৃতিতে আত্মহত্যা ছিল রীতিমতো গৌরবের কাজ ৷ ভারতে এক সময় মৃত স্বামীর চিতায় সদ্য-বিধবা স্ত্রীর আত্মাহূতি দেয়া ছিল বাধ্যতামূলক এবং পূণ্যের কাজ হিসেবে বিবেচিত। প্রাচীন গ্রীসে অপরাধীদের আত্মহত্যা করার সুযোগ দেয়া হতো। জাপানে ‘হারিকিরি’ (এক ধরনের আত্মহত্যা) ছিল সৈনিকদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাকর ৷

আত্মহত্যা সংক্রান্ত সাম্প্রতিকালের সবচেয়ে বড় ঘটনা

আত্মঘাতী অভিনেত্রী দিশা গঙ্গোপাধ্যায়

দিশার মতোই দিশাহীন যে সেলেবমৃত্যু

সমকামিতার চাপেই দিশাহীন দিশা?

দিশার পুরুষ সম্পর্ক মানতে পারেননি সুচন্দ্রা!

জীবনযুদ্ধ থেকে পালিয়ে গেলে হবে না:  জুন মালিয়া

রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, “মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে।” অথচ এই সুন্দর ভুবন ছেড়ে চলে যেতে অনেকেই তাড়াহুড়া করেন ৷ মনে রাখতে হবে, কোনো মানুষের জীবনই অর্থহীন বা মুল্যহীন হতে পারে না ৷