শেখর দুবে, কলকাতা: ২০১৩ থেকে দেশ জুড়ে হিন্দুত্ববাদের যে ঢেউ উঠতে শুরু করেছিল তা এসে লাগছে বাংলার গায়েও৷ তারই প্রভাবে শেষ কয়েক বছরের তুলনায় বিক্রি বাড়ল বইমেলায় হিন্দুত্ববাদী বইয়ের দোকানে৷ বিক্রি বাড়ার কথা স্বীকার করে নিচ্ছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর সৌরীশ মুখোপাধ্যায়৷

সৌরীশের বক্তব্য, প্রতি বছরই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্টলে লোক ভিড় করেন৷ তবে এবারে ভিড় অনেক বেশি৷
ধর্মীয় বইয়ের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বরাবরই বেশি৷ কারণ বিষয়গুলির সঙ্গে শ্রদ্ধা ভক্তির পাশাপাশি প্রাচীন ইতিহাস জড়িয়ে থাকে৷ নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আশার পর দেশে জুড়ে হিন্দুত্ববাদের চর্চা বেড়েছে তারই প্রভাব পড়েছে বইমেলায় হিন্দুত্ববাদী বইয়ের দোকানেও৷ এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের৷ কোন কোন বই বেশি কিনছেন লোক? এই প্রশ্নের উত্তরে সৌরিশ জানান, ‘‘রামজন্মভূমির উপর লেখা বইয়ের চাহিদা বেশি৷ তবে পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দ, বীর সাভারকরের আন্মজীবনীমূলক গ্রন্থের চাহিদা রয়েছে৷’’

রচনার পর কয়েক হাজার বছর পেরিয়ে এসেছে৷ দেশ ছাডা়ও বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে ভারতের দুই শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য রামায়ণ এবং মহাভারত৷ কিন্তু এই দুটি বইয়ের প্রতি কৌতুহল এবং চাহিদা আজও একই রকম রয়েছেন বলে জানান বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ১৮৬ নম্বর স্টলের বই বিক্রেতারা৷ এছাড়াও মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী গডসের জবানবন্দী উপর নির্বর করে লেখা বই, ‘আমি গডসে বলছি’ও বিক্রি হচ্ছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্টলে৷

এক সময় রাজ্যের বিজেপি শীর্ষ নেতা এবং বর্তমানে মেঘালয়ের রাজ্যফাল তথাগত রায়ের দেশভাগ নিয়ে লেখা বই , ‘যা ছিল আমার দেশ’-এর ভালো চাহিদা রয়েছেন বলে জানান সৌরিশ৷ এরই মধ্যে বইমেলায় বিশ্বহিন্দু পরিষদের স্টলে উপস্থিত হয়েছিলেন খোদ তথাগত রায়৷ সৌরিশ জানান নিজে পুরো দোকান ঘুরে দেখেন তথাগতবাবু৷ বইও কেনেন৷