কলকাতা: শীত মানেই উৎসবের মুরশুম। চারদিকে এখন নানা উৎসব। শুক্রবার শুরু হয়ে গেল এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসব। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে উৎসবের উদ্বোধন করেন কবি শঙ্খ ঘোষ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মাজহারুল ইসলাম। পত্রভারতীর কর্ণধার ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়। উৎসবের থিম সং তৈরি করেছেন সুরজিৎ। তিনিও উপস্থিত ছিলেন।

এবার এই উৎসব পঞ্চম বর্ষে পা দিল। পরিচালক স্বাগত সেনগুপ্ত বেশ আশাবাদী। তিনি বলেন, “আজ থেকে পাঁচ বছর আগে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হত পার্ক স্ট্রিটের অক্সফোর্ড বুক স্টোরে। গত বছর থেকে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ উৎসব অনেক বড় চেহারা নিয়েছে। এতে আমি খুশি”। তিনদিনব্যাপী এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবের অনুষ্ঠানসূচীতে রয়েছে নানা পর্ব।

এই উৎসব ভারত এবং বাংলাদেশের সাহিত্যিকদের এক করেছে। শুক্রবার দুপুর তিনটায় সাহিত্যকেন্দ্রিক ফেসবুক পেজের সঙ্গে আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আড্ডায় অংশ নিলেন ১২টি ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন।

এর পরের পর্বে ছিল ‘লিটল ম্যাগাজিন থেকে ওয়েবজিন/ চলার পথ চিনে নিন’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে বক্তব্য রাখেন ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন। এরপর অনুষ্ঠিত হয় প্রকাশকদের আড্ডা। অংশ নেন সুধাংশু শেখর দে, রূপা মজুমদার, চুমকি চট্টোপাধ্যায় এবং মাজহারুল ইসলাম। সঞ্চালনায় ছিলেন ইমানুল হক।

এমনই সব আড্ডার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে যা সাহিত্যপ্রেমীদের আকর্ষণ করছে। শনিবার দুপুর ১২টায় থাকছে ‘সোশ্যাল মিডিয়া সাহিত্য’ বিষয়ক আড্ডা। বাংলা সাহিত্যের খাওয়াদাওয়া বিষয়ক আড্ডা ‘বাংলা সাহিত্যের খাই খাই’-এ যোগ দেবেন ইন্দ্রজিৎ লাহিড়ী, রাজীব ঘোষ, মৌসুমী সেনগুপ্ত এবং মাজহারুল ইসলাম।

বাংলা সাহিত্যের সময়ের চিহ্ন বিষয়ের আলোচনায় অংশ নেবেন সুবোধ সরকার, শ্রীজাত, নির্বেদ রায় প্রমুখ। এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় থাকবেন প্রচেত গুপ্ত। বাংলা সাহিত্যের মজা কি মজে গেছে? এই বিষয়ের আড্ডায় থাকবেন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, সৈকত মুখোপাধ্যায়, শুভাশিস মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

উৎসবের শেষ দিন অর্থাৎ ২৪ নভেম্বরও থাকছে বাংলা সাহিত্যের নানা বিষয়ে উজ্জ্বল আড্ডা। ভৌতিক বাংলা সাহিত্য বিষয়ক অংশ নেবেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, জয়দীপ চক্রবর্তী, ইন্দ্রাণী চক্রবর্তী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম প্রমুখ। সাহিত্য ও সিনেমা একে অন্যের কতটা ক্ষতি করেছে– এই বিষয়ের আলোচনায় অংশ নেবেন সমরেশ মজুমদার, রুদ্রনীল ঘোষ, স্বপময় চক্রবর্তী প্রমুখ।