স্টাফ রিপোর্টার, কাঁথি: খেজুরি বন্দর থেকে ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায় আর প্রিন্স দ্বারোকানাথ ঠাকুরের বিলেত ভ্রমনের স্মৃতি রক্ষায় খেজুরির ‘হেরিটেজ সুরক্ষা সমিতি’র উদ্যোগে স্থাপিত হল এই দুই মণীষীর পূর্ণাবয়ব মূর্তি। খেজুরির প্রাচীন ডাকঘর সংলগ্ন সেচ বাংলোয় রবিবার এই দুই মণীষীর মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন কাঁথির সংসদ শিশির অধিকারী এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা পরিষদের সভাধিপতি মধুরিমা মণ্ডল।

শিশিরবাবু জানান, ‘‘খেজুরির ঐতিহাসিক সমস্ত নিদর্শনকে ঘিরে পর্যটন বিকাশের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে৷’’ খেজুরির নামের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বহু ইতিহাস। কিন্তু প্রাচীন সেই সব ইতিহাস এখন অবহেলিত। আর সেই সব ইতিহাসকে সংরক্ষিত করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে এলাকার কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, অধ্যক্ষদের নিয়ে গঠিত হয় খেজুরি হেরিটেজ সুরক্ষা সমিতি। তাঁদেরই উদ্যোগে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা ব্যায়ে এদিন রামমোহন রায় আর প্রিন্স দ্বারোকানাথ ঠাকুরের ৬ ফুট উচ্চতার দুটো কংক্রিট মূর্তি স্থাপন করা হয়।

ইংরেজ আমলে হুগলি নদীর তটবর্তী দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত এই খেজুরির পরিচিতি ছিল দেশের অন্যতম বাণিজ্যবন্দর হিসেবে। এশিয়া, ইউরোপ সহ বর্হিবিশ্বের সঙ্গে জলপথে খেজুরির নিবিড় যোগসূত্র তৈরি হয়েছিল। আর এই বন্দরকে ঘিরে আধুনিক বাণিজ্য নগর থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে গড়ে উঠেছিল ভারতের ডাকঘর, টেলিগ্রাম অফিস, বাতিঘর, ইউরোপীয়দের সমাধিক্ষেত্র। কালের নিয়মে এখন সে সব স্মৃতি। আর এই স্মৃতির মধ্যে অন্যতম রাজা রামমোহন আর প্রিন্স দ্বারোকানাথের খেজুরি বন্দর থেকে বিলেত ভ্রমণ।

১৮৩০ সালের ১৯ নভেম্বর রাজা রামমোহন রায় কলকাতা থেকে জলপথে ছোট স্টিমারে এসে রাত্রিযাপন করেছিলেন খেজুরিতে। পর দিন পালতোলা জাহাজে খেজুরি বন্দর হয়েই সর্বপ্রথম তিনি ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে ১৮৪২ ও ১৮৪৫ সালে দ্বারকানাথ ঠাকুরও এই বন্দর দিয়েই বিদেশযাত্রা করেছিলেন। আর সেই স্মৃতি ধরে রাখতেই তাঁদের মূর্তি স্থাপন করা হল এদিন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রণজিৎ মণ্ডল, খেজুরি হেরিটেজ সুরক্ষা সমিতির সম্পাদক ড. রামচন্দ্র মণ্ডল, প্রাবন্ধিক ড. প্রবালকান্তি হাজরা প্রমুখ।