নিউ ইয়র্ক : পৃথিবীর গভীরতম ডুব! প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাতের তলদেশে প্রায় ১০,৯২৮ মিটার নীচে চলে যাওয়া অজানা রহস্যের সন্ধানে। এতদিন পর্যন্ত যেখানে মানুষের পা পড়েনি। পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর সমুদ্রখাতের সেই গভীরতম বিন্দুতে নেমে রেকর্ড গড়লেন প্রাক্তন নৌ-সেনা আধিকারিক তথা মার্কিন অভিযাত্রী ভিক্টর ভেসকোভো।

প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাতের এই গভীরতম বিন্দু ‘চ্যালেঞ্জার্স ডিপ’ বলেই পরিচিত অভিযাত্রীদের কাছে। গত তিন সপ্তাহে অন্তত চার বার সাবমেরিনে চেপে সেখানে ডুব দিয়েছিন ভেসকোভো। উদ্দেশ্য ছিল, অজানা জল-জীবনকে জানা এবং সমুদ্র তলদেশে পাথরের নমুনা সংগ্রহ করা। চার বারের চেষ্টায় তিনি পৌঁছে যান সমুদ্রের প্রায় ১০,৯২৮ মিটার গভীরে। চার নম্বর বারের অভিযানে টানা চার ঘণ্টা সমুদ্রের তলদেশে কাটান ভেসকোভো।

অজানা আবিষ্কারের কৌতূহল তো ছিলই, কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর সমুদ্রখাতে নেমে তাঁকে অবাক করেছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর সমুদ্রখাতের গভীরতম বিন্দুতে জমে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য। যেখানে এতদিন পর্যন্ত মানুষ পৌঁছতে পারেনি, সেখানে স্তূপাকারে জমে রয়েছে রাশি রাশি আবর্জনা!

তিনি জানান, চার নম্বর বারে লম্বা পায়ের চিংড়ি জাতীয় এক ধরনের অদ্ভুত প্রাণী দেখেছেন তিনি। প্রায় স্বচ্ছ দেখতে সমুদ্র শসা জাতীয় প্রাণীও দেখেছেন। আরও বেশ কয়েকটি অদ্ভুত প্রাণী নজরে এসেছে তাঁর। তবে বিষণ্ণ করেছে, এত গভীরতায় ভাঙা ধাতব খণ্ড আর প্লাস্টিকের টুকরোর উপস্থিতি।
ভেসকোভোর মতে, ‘‘এ বার মারিয়ানা খাতে প্লাস্টিকের উপস্থিতি সচেতনতা বাড়াবে। মহাসমুদ্রগুলি যে ময়লা ফেলার জায়গা নয়, তা বুঝতে হবে। সমুদ্র বাঁচাতে আরও কড়া নীতি নিতে হবে।’’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সর্বোচ্চ শিখর মাউন্ট এভারেস্টে টন টন জঞ্জাল সরানোর খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। তার দায় বর্তায় অভিযাত্রীদের উপরেই। কিন্তু ‘চ্যালেঞ্জার্স ডিপ’? ভেসকোভোর আগে মাত্র দুবার এর কাছাকাছি গভীরতায় নামার সাহস দেখিয়েছে মানুষ। ১৯৬০ সালে প্রথম বার সাবমেরিন পৌঁছোয় ১০,৯১২ মিটার গভীরে। সেবার সেই সাহস দেখিয়েছিলেন মার্কিন নৌবাহিনী। তার পর ২০১২ সালে। সেবার কানাডার চিত্র পরিচালক জেমস ক্যামেরন ১০,৯০৮ মিটার নেমে প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে যান।

রাষ্ট্রপুঞ্জের পর্যবেক্ষণ, এই মুহূর্তে সাত সাগরের তলদেশে জমা জঞ্জালের পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি টন। সমুদ্র দূষণের মাত্রা এতটাই বেশি যে গভীর সমুদ্রে ঘুরে বেড়ানো তিমি জাতীয় প্রাণীর পেটেও মাইক্রো-প্লাস্টিক মিলছে।