শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : ২ মে-র নির্বাচনের ফল (Election Result) কোন বার্তা নিয়ে আসবে রাজ্য রাজনীতিতে? কেননা ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) প্রথমে একটা রাজনৈতিক বাইনারি চালু ছিল। এটা বামেদের মত। তবে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (ISF) সঙ্গে বাম-কংগ্রেসের জোট একটা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরী করে দিয়েছে। বিশেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি বাম-কংগ্রেস-ইন্ডিয়ান (Left-Congress-ISF) সেক্যুলার ফ্রন্টের ব্রিগেড সমাবেশ রাজ্য রাজনীতিতে একটা নতুন বার্তা এনে দিয়েছে। আর এই বাম-কংগ্রেস-ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের জোটকে শক্তিশালী করার মূল দায়িত্ব নিয়েছে সিপিএম। কেননা ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-র যে পরিমাণ শক্তি বেড়েছে, ঠিক সেই পরিমাণ শক্তি হারিয়েছে বামেরা। তাই একটা কথা বঙ্গরাজনীতিতে চালু হয়ে গেছে “বাম ভোট রামে গেছে।” সিপিএম (CPM)এই দায় থেকে মুক্তি পেতেই এবার রাজ্য রাজনীতির রাজনৈতিক বাইনারিকে বদলে দিয়েছে সিপিএম। সিপিএমকে বলা হচ্ছে এই কারণে আব্বাস সিদ্দিকীর (Abbas Siddiqui) সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্কটা সেই অর্থে ভালো নয়। তাই রাজ্যের ৩০% সংখ্যালঘু ভোট আব্বাস সিদ্দিকী যদি সংযুক্ত মোর্চার দিকে টানতে পারেন তাহলে ভোটের ফল কী হবে সেটা হয়তো কেউ অনুমান করতে পারছেন না।

২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের ফলের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই তৃণমূল কংগ্রেস তখন ২১১টি আসন পেয়ে রাজ্যে দ্বিতীয়বারের জন্য সরকার গড়েছিল। তৃণমূল তখন ৪৪.৯১% ভোট পেয়েছিল। বাম কংগ্রেস জোট পেয়েছিল ৭৬টি আসন। বাম কংগ্রেস জোটের ভোট পাওয়ার হার ছিল ৩৭.৯৪%। আর ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল ৩টি আসন। বিজেপি সেই নির্বাচনে পেয়েছিল ১০.০৭% ভোট। এর পর রাজ্যে ২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়নি। ৩৫% আসনে বিনা তৃণমূল জিতে যায়। বিরোধী দলের বহু প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি সেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে। বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। এই ঘটনাকে খুব স্বাভাবিক কারণেই রাজনৈতিক রূপ দিয়ে রাজ্যের শাসক বিরোধীরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচারে নাম। এসব চলতে চলতেই ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন এসে যায়। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশে নরেন্দ্র মোদীর বিকল্প সেই অর্থে কেউ ছিলেন না। কংগ্রেসের তরফে রাহুল গান্ধীর (Rahul GandhiRahul Gandhi) দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো গ্রহণযোগ্যতা তৈরী ছিল না। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দেশের অবিজেপি দলগুলোকে একত্রিত করে লোকসভা নির্বাচনে নামলেও তাঁর সেই প্রয়াস সফল হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বলেছেন ৪২-এ ৪২ টি আসন তৃণমূল পাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল বিজেপি ১৮টি আসন পেয়ে গেল ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে। হারিয়ে গেল বাম। কংগ্রেস ভেসে রইল কোনও রকমে ।

তবে তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেসের বক্তব্য, লোকসভার নির্বাচন আর বিধানসভার নির্বাচনে একই সমীকরণ কাজ করে না। তাই ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)  ও অমিত শাহের (Amit Shah) ওপর মানুষের ভরসা করার ঘটনা ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে ঘটবে না। দেশের ভোট আর রাজ্যের ভোট এক লক্ষে চলে না। তাই এই নির্বাচনে মোদী-শাহ মিথ কাজে লাগবে না।

আমরা যদি ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের ফলের দিকে তাকাই তাহলের দেখতে পাবো বিজেপি কিন্তু বিধানসভা আসন ধরে তাদের শক্তি ২০১৬-র তুলনায় প্রায় ৩০% বাড়িয়েছে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে বিজেপি-র দখলে রয়েছে ১২১টি আসন। হিসেবে বলছে বিজেপি তাদের শক্তি বারুয়েছে ১১৮টি আসনে। ভোট পেয়েছে ৪০.০২% ভোট। তৃণমূল ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে ৪৭টি বিধানসভায় নিজেদের ক্ষমতা হারিয়েছে। তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে ১৬৪টি বিধানসভা আসনে। তৃণমূল ভোট পায় ৪৩.০৩% ভোট। বামেরা পান ৭.৫% ভোট। আসন সংখ্যা ৩২ থেকে শূন্যতে নেমে যায়। কংগ্রেসের আসন কমে ৩৫ থেকে ৯টিতে দাঁড়ায়। কংগ্র্রেস পায় ৫.৫% ভোট।

এই ফলের মধ্যে অবশ্যই সংখ্যালঘু ভোট ঢুকে ছিল। এবার সেই ভোট আব্বাস সিদ্দিকী-র জন্য সংযুক্ত মোর্চার ঘরে ঢুকলে তৃণমূলের বিপদ বাড়বে। আর সেটা বুঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রচারে আব্বাস সিদ্দিকীকে সমালোচনা করেছেন। তবে বামেরা বলছেন ২-১৯-এর পর তিন বছর প্রায় কেটেছে। নরেন্দ্র মোদীর ওপর মানুষের ভরসা টলে গেছে অনেকটাই। পাশাপাশি মানুষ ২০১১ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যর্থতা দেখেছেন। তাই বামেদের বক্তব্য তাদের যে ভোট চলে গেছিল সেই ভোট আবার ফিরে আসবে। এবার দেখার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ম্যাজিক ফিগার কে পেয়ে রাজ্যের ক্ষমতায় আসে। কারণ এবারের নির্বাচনটা হয়েছে মোদী বনাম মমতার লড়াইয়ের নির্বাচন। তাই নির্বাচনের ফলের জন্য অপেক্ষা করতেই হবে। এখন দেখার মোদীর কথায় রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হয় না বাংলা নিজের মেয়েকেই বেঁচে নেয় সেটাই দেখার।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.