নয়াদিল্লি: শুক্রবার সকালে একটি খবরে তোলপাড় হয়ে গিয়েছে গোটা দেশ। ভোররাতে হাইওয়ের উপর পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে ধর্ষণে অভিযুক্ত চারজনের। সেই ঘটনাকে অনেকে সমর্থন করলেও, প্রশ্নও উঠেছে অনেক। পুলিশ জানিয়েছে, যে তাদের হাত থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালাচ্ছিল অভিযুক্তরা।

ঠিক কোন পরিস্থিতিতে পুলিশ সন্দেহভাজনকে মারতে পারে?

১৯৯৭-এর ২৯ মার্চ সব রাজ্যকে এই সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন চেয়ারপার্সন ওই চিঠি পাঠিয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল যে দুটি পরিস্থিতিতে পুলিশ কাউকে মারতে পারে।

লেখা ছিল, ভারতের অপরাধ সংক্রান্ত আইন আনুযায়ী, ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার খাতিরে কাউকে হত্যা করা হলে, সেটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।

সাইবারাবাদ পুলিশ কমিশনার ভিসি সজ্জানারও একই কথা বলেছেন যে, আত্মরক্ষার খাতিরে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। দেশের যে কোও এনকাউন্টারেই পুলিশ সাধারণত এই যুক্তি পেশ করে থাকে।

দ্বিতীয়টি হল, পুলিশ যদি কাউকে গুলি করে, তাহলে পুলিশকে এটা প্রমাণ করতে হবে যে, সেই ব্যক্তির এমন কোনও অপরাধ করেছে যাতে তার মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে এবং ওই ব্যক্তিকে যে কোনও মূল্যে গ্রেফতার করা প্রয়োজন।

তবে দুটি ক্ষেত্রই তদন্ত সাপেক্ষ। তদন্তে এই দুটির যে কোনও একটি পরিস্থিতির প্রমাণ দিতে হবে।

তেলেঙ্গানায় মহিলা পশু চিকিৎসককে ধর্ষণের ঘটনার সপ্তাহ খানেক পর, শুক্রবার ভোররাতে পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় চার অভিযুক্তের। ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর এই এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে। ওই পথেই পালানোর চেষ্টা করছিল অভিযুক্তরা।

শাদনগরের যে রাস্তায় ওই চিকিৎসকের অগ্নিদগ্ধ দেহ পাওয়া গিয়েছিল, সেখানেই এই ঘটনা ঘটে। চারজনই পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছে বলে জানিয়েছে তেলেঙ্গানা পুলিশ। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার পুনর্নিমাণের জন্য তাদের ওই জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখনই তারা পালানোর চেষ্টা করলে গুলি চালায় পুলিশ।

গত কয়েকদিন ধরেই তেলেঙ্গানা ধর্ষণ-কাণ্ডে উত্তাল গোটা দেশ। অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছিল সব মহল থেকেই। এমনকি তাদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান জয়া বচ্চন সহ একাধিক সাংসদ।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ