মুম্বই: সূত্রের খবর গোরক্ষার নামে অত্যাচারের ঘটনা কমাতে মধ্যপ্রদেশে বিল আনতে চলেছে কমলনাথ সরকার। আর তার ঠিক আগেই প্রকাশ্যে এল এক ভয়ঙ্কর ভিডিও।

অন্তত ১০০ জন গ্রামবাসী মিলে ২৪ জনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে শাস্তি দিয়েছে। তারা মহারাষ্ট্র গোরু পাঠাচ্ছিল বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের খালওয়াস এলাকার সানওয়ালিখেদা গ্রামে। এদের বেঁধে রেকে ‘গোমাতা কি জয়; বলে বাধ্য করা হয়েছে বলে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে।

জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রের একটি পশু মেলায় রবিবার গবাদি পশু নিয়ে যাচ্ছিল এই ২৪ জন ব্যক্তি। মোবাইলে রেকর্ড করে পুরো ঘটনার ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর তাতেই শুরু হয়েছে নিন্দার ঝড়। ভিডিওতে দেখা গেছে, দলের ১৫ জনের হাত দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় রাস্তা দিয়ে হাঁটু মুড়ে বসিয়ে ওই অবস্থাতেই চলতে বাধ্য করা হয়। তখনও তাঁদের মুখে তখন শোনা যাচ্ছে “গো মাতা কি জয়” ধ্বনি।ভিডিওটিতে আরও দেখা গিয়েছে, সাদা শার্ট পরা এক ব্যক্তি মোবাইলে সবার মুখের ক্লোজআপ ছবি বা ভিডিও নিচ্ছে। যাতে বোঝা যায় যে, সবাই গো মাতা কি জয় বলছেন কিনা। বাকি দু-জন কড়া নজর রাখছেন হাত-বাঁধা পুরুষদের ওপর।

সূত্রের খবর, ১০০ জনের এই গো-রক্ষক দলের অভিযোগ, সাভালিকেরা গ্রাম থেকে ২৪ জন পশুপাচারকারী ২০টি গবাদি পশু নিয়ে যাচ্ছিলেন পশু হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে। মাঝপথেই সবাই ধরা পড়ায় শাস্তি হিসেবে হাত বেঁধে তাঁদের হাঁটু মুড়ে নিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তিন কিলোমিটার পর্যন্ত।

জেলা পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট শিবদয়াল সিংয়ের মতে, পশু সরবরাহকারীরা মালবাহী গাড়ি এবং গবাদি পশুর মালিকানার দাবি জানালেও তাঁরা সেই মালিকানা প্রমাণ করতে পারেননি।

গোরক্ষকদের দাবি, ২৪ জনের ওই দল কোনও বৈধ কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি। ফলে, যানবাহন এবং গবাদি পশু গ্রেফতার করে মধ্যপ্রদেশ গোবংশ বধ প্রতিষেধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। তবে এই ধরনের অত্যাচার চালানোর বিরুদ্ধেও কোনও পদক্ষেপ করেনি প্রশাসন। জেলা সুপারিটেন্ডের কথায়, তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত,মধ্যপ্রদেশের খন্দওয়া, সেহোর, দেওয়াস ও হার্দা জেলার বাসিন্দা ওই ২৫ জন। এঁদের মধ্যে ছ-জন মুসলমান।

মধ্যপ্রদেশের বিধানসভায় বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর একদিন আগে এমন ঘটনা অস্বস্তিতে ফেলেছে রাজনৈতিক নেতাদের। ইতিমধ্যেই সেখানে গো-সংরক্ষণের জন্য একটি বিল চালু করার কথা চলছে। বিলটি পাস হলে গোরুপাচারকারীর ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।