স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : করোনার কোপ ব্যাপক ভাবে পড়েছে পটুয়াপাড়ায়। দেশের বায়না নেই। বিদেশের অর্ডারের খবর নেই। যার উপর নির্ভর করে গোটা বছর সেই দুর্গোৎসবকে ঘিরে অনিশ্চয়তা। এমন সময়েই পটুয়াপাড়া থেকে বিদেশে পারি দিচ্ছে দুর্গা। তা অস্ট্রেলিয়ায়। যে অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপ বন্ধ হয়ে যায় যায়। যে অজিদের দেশে টেস্ট সিরিজ নিয়ে ডামাডোল। সেখানেই এই করোনার আবহে প্রথম বিদেশে পারি দিচ্ছে দুর্গা।

শিল্পী কৌশিক ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন , ‘পুজো এবার ঠিক ভাবে হবে কিনা এই নিয়ে প্রবল সংশয় তৈরি রয়েছে। এই একটা ঠাকুর অনেক আগেই অর্ডার এসেছিল। সোমবার জাহাজে উঠবে ঠাকুর। পুরো স্যানিতাইজ করে ফাইবারের প্রতিমা তোলা হবে জাহাজে।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ বড় পুজোগুলিই স্পনসরের অভাবে ভুগছে। এই প্রবল বিপন্ন রাজ্যে অবশেষে এটা বলতে পারেন একটা ভালো খবর। তইবে এটাও মন্দের ভালো।’ কুমোরটুলি থেকে দুর্গা সপরিবারে পাড়ি দেবেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। আট ফুটের ফাইবারের এই দুর্গা। সঙ্গে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী এবং তাদের বাহনরা।

বাধা বিপদ কাটিয়ে কুমোরটুলির মরা গাঙে শরতের ছোঁয়া লেগেছে তা বলা যেতেই পারে। শিল্পীরা জানাচ্ছেন নভেম্বর মাস থেকেই বিদেশের ঠাকুরের বরাত আসতে শুরু করে। ৩০ থেকে ৩২টি প্রতিমা প্রতিবছরই কুমোরটুলি থেকে বিদেশে যায়। এবার সেটা কমে হয়েছে ৮ থেকে ১০। অর্ধেকেরও কম। একে একে একে সেই প্রতিমা তৈরি শেষ করে প্যাকেজিং করা হচ্ছে। এবারে শহরের দুর্গাপুজো যে আগের মতো আর হবে না সেটা বলাই বাহুল্য। কাশীবোস লেন, নলীন সরকার স্ট্রিট, নাকতলা উদয়ন, আহেরিটোলা, যোধপুর পার্ক সহ একাধিক বড় পুজোয় এবার স্পনসরের কোপ পড়েছে। লকডাউনের কারণে রাজ্যে ব্যবসা বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে। যা সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছেন বড় ব্যবয়ায়ীরাও তাই এবারে পুজোট স্পনসরশিপ কতটা জুটবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শহরের অর্ডারে ঘাটতি কুমোরটুলি থেকে বিদেশে দুর্গা পাড়ি দিলেও দেশিয় বাজার একেবারে ফাঁকা। এখনও পর্যন্ত শহর কলকাতা বা শহরতলীর পুজোর তেমন অর্ডার আসেনি কুমোরটুলিতে। তাই এবারের পুজো নিয়ে অন্ধকারে প্রতিমা শিল্পীরা। শুধু তারা নন এই প্রতিমা তৈরির আনুসঙ্গিক কাজে অনেকেই জড়িত রয়েছে তাঁদেরও রোজগারে কোপ পড়েছে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

Tree-bute: রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও