ছবি সৌজন্য : বুড়ি দুর্গা শ্রীরামপুর গোস্বামী পরিবার

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : এই শহরের অনেক বনেদীবাড়ির দুর্গোৎসবের টেক্কা দিতে পারে এই পরিবারের পুজো। বারোয়ারিগুলি দুর্গাপুজোর কথা ভেবে কিছু বিধির কথা ভেবেছে তবে বনেদী বাড়ির পক্ষে সেই অর্থে তেমন কিছু বিধির কথা ভালো হয়নি। রথের দিনে শোভাবাজার রাজবাড়িতে কাঠামো পুজো হলেও তেমন কোনও বিধি নিষেধের কথা জানানো হয়নি। সবার আগে বনেদীবাড়ি হিসাবে করোনার জন্য দুর্গোৎসবের বিধি নিষেধের কথা প্রকাশ করল। আগাম তৎপরতায় শ্রীরামপুরের গোস্বামী বাড়ির সদস্যরা।

পরিবারের পক্ষে জানানো হয়েছে, যারা পুজো দেখতে আসবেন তাঁদের প্রত্যেকের থার্মাল স্ক্রিনিং হবে। পাশাপাশি ওই দর্শনার্থীকে সম্পূর্ণ স্যানিটাইজ করা হবে। তবেই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে ঠাকুর দালানে। পাশাপাশি এও জানানো হয়েছে মাস্ক ছাড়া কোনওভাবে দালানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না কোনও দর্শনার্থীকে। সামাজিক দুরত্ব বিধি মেনে চলার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, পুজোর সামগ্রীতে নাম লিখে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে পুজো দিতে হবে। পরে তাঁর থেকেই নিতে হবে পুজো। পাশাপাশি অনালাইনে পুজো দেখানোর ব্যবস্থাও করছে এই বনেদী পরিবার। ৪১৫তম বছরে এমনটাই তাঁদের পরিকল্পনা। ১৫৯৫, শ্রীরামপুরের গোস্বামী বাড়ির পারিবারিক দুর্গাপুজোর সুচনা করেন রাম গোবিন্দ গোস্বামী। সেই থেকে বংশ পরম্পরায় হয়ে আসছে এই পুজো। হুগলি জেলায় প্রাচীনতম কয়েকটি পুজোর মধ্যে অন্যতম শ্রীরামপুরের এই গোস্বামী বড়ির পুজো। এই পরিবারের দুর্গাপুজো।

হুগলি জেলার শেওড়াফুলি অঞ্চলের জমিদার শ্রী মনোহর রায় নিজের জমিদারি থেকে এক বিশালায়তন জমি দান করেছিলেন। বংশানুক্রমে শ্রী রাম গোবিন্দ গোস্বামীর পৌত্র শ্রী হরিনারায়ণ গোস্বামী শ্রীরামপুর অঞ্চলে প্রাপ্ত জমিটির ওপর এক সুবিশাল অট্টালিকা স্থাপন করেন। যা বর্তমানে গোস্বামী বাড়ি নামে পরিচিত। একটা সময় এই গোস্বামী বাড়ির পদবী ছিল চক্রবর্তী, কিন্তু মহাপ্রভু চৈতন্যদেব রাম গোবিন্দকে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত করার পর গোস্বামী পদবীতে পরিবর্তন হয়ে যায় এই পরিবার। তাই গোস্বামী পরিবারের দুর্গাপুজো হয় বৈষ্ণব মতে। গোস্বামী বাড়ির ঠাকুর দালানে রথের দিনই কাঠামো পুজোর মাধ্যমে শুরু হয় মায়ের মূর্তি তৈরির কাজ। কুলোর আকারের একচালা কাঠামোয় মায়ের মূর্তির সঙ্গে লক্ষী, গণেশ, কার্তিক ও সরস্বতীও অবস্থান করেন। যদিও একটা সময়ে এখানে কোনও ঠাকুর দালান ছিল না, ফাঁকা জায়গায় চাঁদোয়া খাটিয়ে করা হত মায়ের আরাধনা। আনুমানিক ১৮০০ সালে রাজীব গোস্বামীর হাত ধরেই তৈরি হয় এই বাড়ির বিশাল ও সুসজ্জিত ঠাকুর দালান।

মহালয়াতেই একপ্রকার শুরু হয়ে যায় পুজো, চলে আসেন বাইরে থাকা আত্বীয়রা ও প্রতিবেশীরা। ষষ্ঠীতে হয় দেবীর বোধন, সপ্তমীতে কলা বৌ স্নান, এই বাড়িতে কলা বৌ স্নানের একটা রীতি রয়েছে, সেটা হলে শ্রীরামপুরের এই গোস্বামী বাড়িটি একেবারে গঙ্গার কাছে থাকলেও কলা বৌ-কে গঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হয় না। বাড়িতেই কলা বৌ-কে স্নান করানো হয়। অষ্টমীর সন্ধিপুজো ও কুমারী পুজো দেখতে এই বাড়িতে বহু মানুষ ভিড় করেন, নবমীতে ধুনো পোড়ানোর রীতি রয়েছে। দশমীতে নিয়ম একটু অভিনব, এই পরিবারের এয়ো স্ত্রী-রা মাছ ভাত খেয়ে উমা’কে বরণ করেন। দশমীতে এই বাড়ির সিঁদুর খেলা দেখার মতো। শ্রীরামপুরে গঙ্গায় সবার আগে এই বাড়ির উমাকে বিসর্জন দেওয়া হয়। এরপর শহরের বাকি পুজোগুলির প্রতিমাকে বিসর্জন দেওয়া হয়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।