স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: পারিবারিক অশান্তির মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল মালদহে। পারিবারিক অশান্তির জেরে জামাইয়ের উপর বন্দুক নিয়ে আক্রমন করল শ্বশুর। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর থানার অন্তর্গত পারদেওয়নাপুর পঞ্চায়েতের মোড়লপাড়া গ্রামে। জামাইয়ের উপর গুলি চালানোর ঘটনায় কেউ নিহত না হলেও এই ঘটনায় দুজন আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, আহত ওই জামাইয়ের নাম নেজানুর শেখ। এই ঘটনায় আহত নেজানুরের পরিবারের আরও দুজন। তাঁরা হলেন নেজানুর শেখের ভাই হোসেন শেখ(২৬) এবং তাঁদের বাবা সাদেমান শেখ(৪৬)। আহত জামাই নেজানুর শেখ বর্তমানে মালদহ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন এবং বাকি আহতদের ভরতি করা হয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুক নিয়ে মেয়ের শ্বশুর বাড়ির উপর হামলার অভিযোগ পেয়েছে। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর থানার পারদেওয়নাপুর পঞ্চায়েতের মোড়লপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মতিউরের মেয়ে মির্জা বিবির সঙ্গে বছর তিনেক আগে বিয়ে হয় নেজানুর শেখের । বিয়ের পরে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে সব ঠিকঠাক থাকলেও বাদ সাধে মতিউরের দেওয়া আসবাবপত্র নিয়ে। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি মতিউর তাঁর মেয়ে-জামাইকে খাট আলমারি সহ বেশ কিছু আসবাবপত্র উপহার দিয়েছিলেন। সেই উপহার খুব একটা পছন্দ ছিলনা জামাই নেজানুর শেখের। আর সেই কথা স্ত্রী মির্জা বিবিকে জানাতেই গণ্ডগোলের সূত্রপাত ঘটে বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, মতিউরের দেওয়া উপহার যে জামাই নেজানুরের পছন্দ হয়নি সেই কথা বাবার কানে তুলতেই মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোক জনদের উপর ক্ষেপে উঠে মির্জা বিবির বাবা মতিউর। জানা গিয়েছে, মির্জাসমস্ত ঘটনা তার বাবা ও বাড়ির লোকেদের জানালে এই নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। শুধু তাই নয় শুক্রবার সকালে মির্জার দিদি পারভিন এসে বোনকে জোর করে বাড়ি নিয়ে যায়। এর পরেই মতিউর তাঁর দলবল নিয়ে মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে হামলা করতে চলে আসে বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, হামলা চালানোর সময় মতিউর তাঁদের লক্ষ্য করে প্রায় সাত রাউন্ড গুলি ছোঁরে। যদিও গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যায় নেজানুর ও তাঁর বাড়ির লোকেরা। জানা গিয়েছে মতিউরের সঙ্গে নেজানুরের পরিবারের সদস্যদের হাতাহাতির সময় নেজানুর ও তাঁর বাড়ির সদস্যদের বাঁচাতে এলে এইসময় নেজানুরের বাবা ও ভাইকে মারধোর করে বলে অভিযোগ উঠেছে। মারধরে গুরুত্বর জখম হয়েছে নেজানুরের বাবা এবং ভাই।
পুলিশ জানিয়েছে, নেজানুরের পরিবারের তরফে গুলি চালানো ও মারধরের বিষয়ে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ।