মালদহ : করোনাকে ডোন্ট কেয়ার। জয়ের আনন্দে মেতে উঠেছে জেলার তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। বিজয় মিছিলে কোমরে দড়ি বেঁধে গ্রাম ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে লাঠি পেটা করা হলো মোদী-অমিত শাহ মুখোশধারীকে। ‘বাংলায় আর আসবি,দিদিকে নিয়ে ব্যঙ্গ করবি’ এই শ্লোগান তুলে মজার ছলে মোদি-অমিতকে মারতে থাকে তৃণমূল সমর্থকরা।

শুক্রবার সকালে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নম্বর ব্লকের কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় হয় এমন অভিনব বিজয় মিছিলে। এমনি সংস্কৃতি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

বিপুল সংখ্যক মানুষের সমর্থন নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য রাজ্যের ক্ষমতায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জয়ের আনন্দে মেতে উঠেছে জেলার তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। বিজয় মিছিলে কোমরে দড়ি মোদী-অমিত শাহ সেজে আসা দুজনের মুখে মাস্ক দেখা গেলেও বাকি তৃণমূল সমর্থক ও কর্মীদের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। করোনা আবহে নেই সামাজিক দূরত্বের বালই। মুখোশধারী মোদী-অমিতকে দেখার জন্য ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসে শিশু ও মহিলারা।

বাংলায় যে মোদী-অমিতের কোনও স্থান নেই তা এই মিছিলে প্রমানিত হল বলে জানান তৃণমূল কর্মীরা।তারা বলেন, এবার ২০০ পার’-এর স্লোগান দিয়েছিল বিজেপি। সেই স্লোগানকে তৃণমূল বাস্তবায়ন করেছে। দাপটের সঙ্গে ক্ষমতায় ফিরলেন ‘বাংলার মেয়ে’।

ভোট প্রচারে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে মমতার স্কুটার পড়ে যাবে বলে কটাক্ষ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। নন্দীগ্রামে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে অবশ্য তৃণমূলের বিজয় রথ আটকায়নি। এতেই করোনা ভুলে উচ্ছাস চলছে।

তৃণমূল কংগ্রেস কুশিদা অঞ্চল সভাপতি মহম্মদ নুর আজম জানান,সমস্ত গ্রাম আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেছিল। কারণ, আমাদের জনদরদী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার গঠন করেছে। সেই আনন্দে আমরা প্রচুর আনন্দিত। এবং আমরা সমস্ত গ্রামবাসী মিলে এক বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত করলাম। বিজয় মিছিলের আকর্ষণীয় বিষয় ছিল মোদী এবং অমিত শাহের মুখোশ পরিহিত দুই বিজেপি কর্মীকে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়া। আমরা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চাইনা, আমরা সকলের মেল বন্ধন চাই।

জেলা বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনার তীব্র কটাক্ষ করেন। হরিশ্চন্দ্রপুর বিজেপি মন্ডল সভাপতি রূপেশ আগরওয়াল বলেন, “আজ আমি নিজেও দেখলাম আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখোশ পরিয়ে দুইজন মানুষকে নিয়ে কী ভাবে তৃণমূল নোংরামো করছে। এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়।তৃণমূলের সংস্কৃতি কী তা সবাই জানে। জন সাধারণ তার রায় জানিয়েছে। আগামীদিনে মানুষ নিশ্চয়ই বুঝবে যে তারা কী ভুল করেছে। ভোটে হারজিত রয়েছে। তবে করোনা আবহে এধরনের মিছিল মানুষকে আতঙ্কিত করে চলেছে। আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.