স্টাফ রিপোর্টার, তারাপীঠ: শুক্রবার তারা মায়ের আবির্ভাব তিথি।সেই উপলক্ষে তারাপীঠে চলছে বিষেশ পুজোপাঠ। আশ্বিন মাসের শুক্লা চতুর্দশীর এই তিথিতে প্রতিবছর মন্দির চত্বরে তিল ধারনের জায়গা থাকে না। করোনা আবহে সেই এবার ভিড় অনেকটাই কম।

তারাপীঠ মন্দিরের সেবায়েত সমিতির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় জানান, ‘‘এই তিথিতে তারাপীঠ লাগোয়া আশপাশ এলাকার পারিবারিক দুর্গাপুজোর আয়োজকরা তারা পুজো করেন। ওই সব পুজোর কর্তারা এই তিথিতে মনস্কামনা পুরণের আশায় নিজেদের কৌলিকি পুজো মা তারার কাছে নিবেদন করেন। এর জন্য এই তিথি উপলক্ষ্যে মা তারাকে সবার জন্য মায়ের মূল মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে বের করে বিরাম মঞ্চে নিয়ে আসা হয়।’’

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনই মা তারার স্বপ্ন পেয়েছিলেন জয় দত্ত সদাগর । চতুর্দশীর দিনে শ্মশান থেকে মায়ের মূর্তি এনে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। শ্বেত শিমুল বৃক্ষের তলায় পঞ্চমুন্ডির আসনের নীচে মায়ের শিলামূর্তি আছে। শুক্লা চতুর্দশীর এই তিথিতেই সেই মূর্তি উদ্ধার করে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন জয় দত্ত।

এদিন সূর্যোদয়ের আগে, ঘুম ভাঙিয়ে ভোর তিনটে নাগাদ মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে মায়ের বিগ্রহ বের করে আনা হয়। বিরাম মঞ্চে তাঁর ছোট বোন মুলুটির মা মৌলিক্ষার মন্দিরে অভিমুখে পশ্চিমদিকে বসানো হয়।মন্দিরের এক পুরোহিত জানিয়েছেন, পশ্চিম মুখে তারে মাকে বসিয়ে আরাধনার পিছনে রয়েছে এক কাহিনী। তিনি বলেন, বীরভূমের ঝাড়খণ্ড লাগোয়া মলুটি গ্রামের রয়েছেন তাঁর বোন মৌলিক্ষা। এদিন মৌলিক্ষা মন্দিরের দিকেই মুখ করে বসে থাকেন৷

এদিন জীবিত কুণ্ডু থেকে জল এনে মাকে স্নান করানোর পর পরানো হয় রাজবেশ। এরপর বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে মঙ্গল আরতি পর্ব! দিনভর বিরামমঞ্চে থাকার পর বিকেলে আরতির পর মাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মূলমন্দিরে। স্নানের পর নবরুপে সাজানো হয় বিগ্রহকে।

এদিন মায়ের মধ্যাহ্ন ভোগ হয় না। দিনভর তাই ফল-মিষ্টিই খান মা। মহাভোগ তোলা থাকে রাতের জন্য! সকালে মঙ্গলারতির পর লুচি, মিষ্টি, সুজি দিয়ে দেওয়া হয় শীতল ভোগ। রাতে খিচুড়ি, পোলাও, পাঁচরকম ভাজা, মাছ-মাংস দিয়ে করা হয় ভোগ নিবেদন।

কথিত রয়েছে তারাপীঠের মন্দিরের তারা এক এক রূপে আবির্ভূতা হন৷ কখনও দেবী দুর্গা আবার কখনও বা অন্নপূর্ণা৷ এদিন মায়ের পুজো দিতে শুধু বীরভূম তো বটেই, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত, এমনকী ভিনরাজ্য থেকেও বহু পুণ্যার্থী ভিড় জমান তারাধামে।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।