সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : কুমোরটুলিকে সাহায্যের নামে দেওয়া হচ্ছে নীচ মনোবৃত্তির প্রমাণ। শিল্পীদের কার্যত সাহায্যের নামে ভর্ৎসনা করা হচ্ছে। এমনটাই অভিযোগ, কুমারটুলি মৃৎশিল্প সংস্কৃতি সমিতির।

তাঁরা জানাচ্ছেন , ‘যে সমস্ত ক্লাব সংগঠন কুমারটুলি শিল্পীদের নামে সাহায্য করছেন তাদের জানাচ্ছি সব মৃৎশিল্পী কিন্তু দুঃস্থ নয়। বেশিরভাগ মৃৎশিল্পী সাহায্য নিচ্ছেন না। আপনারা কুমারটুলির বাসিন্দাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন তার জন্য আমরা খুব কৃতজ্ঞ। লকডাউন পর্ব শুরুর কিছুদিন পরেই বেশ কিছু সংগঠন এখানকার দুঃস্থ মানুষের প্রয়োজনে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে গেছেন নিঃশব্দে।’ তাঁদের অভিযোগ , ‘ইদানীং কিছু মানুষ বা সংগঠন যেভাবে এখানকার কিছু মানুষ কে খাবার সরবরাহ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করছেন কুমোরটুলি শিল্পীদের নামে ,তাতে আমাদের শিল্পী মনে আঘাত লাগছে । মনে রাখা দরকার যাদের এই সাহায্য করা হচ্ছে তারা কেউই ভিক্ষুক নন। পরিস্থিতির স্বীকার। আমরা এই নীচতার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত করোনা কাঁটা ব্যাপক ভাবে বিদেশে পটুয়াপাড়াকে। প্রথমে অন্নপূর্ণা পুজো, পরে পয়লা বৈশাখ, তারপর মার গিয়েছে অক্ষয় তৃতীয়াও। এমত অবস্থায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে মৃৎ শিল্পীদের। লকডাউন এবং করোনাভাইরাস, এই দুইয়ের সাঁড়াশি আক্রমণে খাঁ খাঁ করছে কুমোরটুলির অলিগলি। অন্নপূর্ণা ঠাকুরগুলি এখনও স্টুডিয়োগুলিতে সার বেধে দাঁড়িয়ে আছে। সেগুলির আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পুজোর আগেই লকডাউন ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল। ফলে খদ্দের জোটেনি। পাশাপাশি বিদেশে প্রবাসী বাঙালিদের পুজোর বরাত এই সময়ে চলে আসে শিল্পীদের কাছে। কিন্তু এ বছর কুমোরটুলিতে কোনও শিল্পীই বিদেশে দুর্গা পাঠানোর বরাত পাননি। সবমিলিয়ে করোনাঘাতে মহা সমস্যায় মৃৎশিল্পীরা। কিন্তু তা বলে এমন কাজকর্মও তাঁরা মানছেন না। তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

এদিকে দেশে তৃতীয় দফার লকডাউন চালু হয়েছে। তা চলবে ১৭ মে পর্যন্ত। কেন্দ্র কি করবে সেটা জানা নেই কিন্তু করোনায় রাজ্যের পরিস্থিতি মোটেই ভালো নয়। এমন সময়ে আর কোথাও না হোক, রেড জোনগুলিতে লকডাউনের সিদ্ধান্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে কলকাতা। যেখানে কন্টাইনমেন্ট জোন ৩১৮টি। একই ভাবে কন্টাইনমেন্ট বেড়েছে হাওড়া এবং উত্তর চব্বিশ পরগনাতেও। রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা জানিয়েছেন, বর্তমানে রাজ্যে কন্টাইনমেন্ট জোনের সংখ্যা পাঁচশো ষোলো। এই তালিকায় নতুন করে কিছু এলাকা যেমন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, সেইরকম কিছু এলাকায় নতুন করে সংক্রমণ না মেলায় তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, হাওড়ায় আগে চুয়ান্নটি কন্টাইনমেন্ট জোন থাকলেও, বর্তমানে তা কুড়িটি বেড়ে চুয়াত্তরে পৌঁছেছে। একই ভাবে কলকাতা লাগোয়া উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলাতেও কন্টাইনমেন্ট জোনের সংখ্যা বেড়ে একাশি হয়েছে। তবে, আগের মতোই পূর্ব মেদিনীপুরে নটি এলাকা কন্টাইনমেন্ট তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প