তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: কাটমানি বিতর্ক এখন যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বাঁকুড়া জেলার শাসক দলের নেতা নেত্রীদের৷ জেলা জুড়েই এখন খবরের শিরোনামে কাটমানি। এবার অফেরতযোগ্য ব্যাংকে লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠল জেলা পরিষদের এক তৃণমূল সদস্যর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লক এলাকার চন্দ্রকোনা গ্রামের।

শনিবার সকাল থেকে বাণী হাজরা নামে ওই জেলা পরিষদ সদস্যার বাড়িতে প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখালেন প্রমীলা বাহিনী। যদিও অভিযুক্ত জেলা পরিষদের ওই তৃণমূল সদস্যা তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জেলা পরিষদ সদস্যার বাড়ির সামনে কাটমানি ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভরত মহিলাদের দাবি, বেশ কিছু দিন আগে ওই তৃণমূল নেত্রী শোধ করতে হবে না এই শর্তে কুড়ি হাজার করে ব্যাংকে লোন পাইয়ে দিয়েছিলেন। ওই লোনের টাকা পাওয়ার পর প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনি সাড়ে তিন হাজার টাকা নেন বলে তাদের অভিযোগ। বর্তমানে সেই লোনের টাকা শোধ করতে হবে জানিয়ে ব্যাংক থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে সুমিত্রা বাউরী বলেন, লোন নেওয়ার আগে ফর্ম পূরণের জন্য দু’শো টাকা ও লোন হাতে পাওয়ার পর সাড়ে তিন হাজার টাকা তৃণমূল নেত্রী নেন। আমাদের লোন শোধ করতে হবে না, একথা বিশ্বাস করেই আমরা তা নিয়েছিলাম। এখন ব্যাংক সেই টাকা শোধ করার জন্য চাপ দিচ্ছে। তাই লোন শোধের আগে বাণী হাজরাকে দেওয়া কাটমানির টাকা তারা ফেরত চাইছেন বলে জানান। যতক্ষণ না পর্যন্ত ঐ টাকা তারা ফেরত পাচ্ছেন, আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্যা বাণী হাজরা তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন৷ বলেন, এই সব বিজেপির চক্রান্ত। আন্দোলনকারীরা এই বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরেও কেন এই ধরণের কাণ্ড ঘটাচ্ছেন দাবি করে বলেন, ওদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দেখা হোক। প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে আমি কি করে নেবো! তাকে মারধর করে ঘর ছাড়া করার চক্রান্ত হচ্ছে বলে এই জেলা পরিষদের সদস্যা দাবি করেন।