সুমন বটব্যাল ও সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: শিল্পীর কোনও ‘জেন্ডার’ হয় না, সেটা প্রমাণ করেছিলেন তিনি৷ এবারের মহালয়ায় তাঁর ওই দ্বৈত সত্ত্বাকে সম্মান জানাতে পুরুষ থেকে মহিলায় রুপান্তরিত হতে দেখা যাবে দশভূজাকে৷

তিনি বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা ঋতুপর্ণ ঘোষ৷ জন্মদিনে তাঁকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে এবারের মহালয়ায় অন্য ধারার ‘মহিষাসুর মর্দিনী’ উপহার দিতে চলেছে কৃষ্ণাজিৎ ফ্লিম প্রোডাকশন ও চঞ্চলক্ষ্মী এনটারটেনমেন্ট৷ মহালয়ার ভোরে একটি চ্যানেলে দেখা যাবে এই অন্যধারার চলচ্চিত্রটি৷ ‘যা দেবী সর্বভূতেষু…’ ব্যাক স্ক্রিনে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর বিখ্যাত কন্ঠস্বরের সঙ্গেই পর্দায় ফুটে উঠবে ‘ঋতুবেশে রুদ্রাণী’৷ যেখানে দেখা যাবে ঋতুবেশে রুদ্রাণীতে মা দুর্গা স্বমহিমায় পুরুষাকার থেকে মহিলা রুপে অসুর নিধনে ব্রতী হয়েছেন৷

আরও পড়ুন: কল্পতরু মুখ্যমন্ত্রী! দুর্গাপুজোতে লম্বা ১৩ দিনের ছুটি সরকারি কর্মীদের

একটি বনেদি বাড়ির পুজোর আদলে তুলে ধরা হয়েছে মহিষাসুর মর্দিনীর এই চিত্রনাট্য৷ প্রত্যেকটি বাড়ীতে শুভ এবং অশুভ শক্তি বিরাজ করে, ঠিক সেরকমই এক বনেদি বাড়ির অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে তাদের বাড়ির কল্পিত দেবী দুর্গা শুভ শক্তির সূচনা করবেন৷ যেখানে বনেদি বাড়ির বধূরা লাল পেড়ে শাড়িতে উমাকে বরণ করা থেকে শুরু করে কন্যা পুজো, – সবই তুলে ধরা হয়েছে৷

অন্য ধারার এই মহালয়ার ভাবনা কেন? কেনই বা ‘ঋতুবেশে রুদ্রাণী’র নামকরণ? ছবির পরিচালনা, কাহিনী, চিত্রনাট্য ও ভাবনা যার সেই শ্যামসুন্দর বসু ওরফে রাই কিশোরী কৃষ্ণকলিই এখানে দুর্গার রূপে অভিনয় করেছেন৷ দ্বৈত পরিচালনায় রয়েছেন আরেক শিল্পী সত্যজিৎ দাসও৷ রাই কিশোরী কৃষ্ণকলি বলছেন, ‘‘ঋতুদা তার দ্বৈত সত্ত্বা নিয়ে অভিনয় করে চলচ্চিত্রের পর্দা বরাবরই কাঁপিয়েছেন৷ ঋতুবেশে রুদ্রাণীতে মা দুর্গা স্বমহিমায় পুরুষাকার থেকে মহিলা রুপে অসুর নিধনে ব্রতী হয়েছে৷ পুরুষ থেকে মহিলার এই রুপান্তর আমাদের ঋতুবেশে রুদ্রাণীর মূল বিষয়৷ এভাবেই আমরা ঋতুদাকে শ্রদ্ধা জানাতে উদ্যোগী হয়েছি৷’’

আরও পড়ুন: পুজোর আগে শহর সাজাতে আসছে রূপান্তকামীদের স্নেহ নীড়

অন্য ধারার এই ফ্লিমে নিপুণ চিত্রনাট্য বুনেছেন শুভজিৎ চৌধুরী৷ ফ্লিমের আর্কষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে গীতি আলেখ্য নৃত্য৷ পুরো চিত্রনাট্যটির শ্যুটিং হয়েছে হুগলির শ্রীরামপুর মদন মোহন মন্দির৷ ৩০ মিনিটের এই চলচ্চিত্রে বাঙালির হারিয়ে যাওয়া বনেদিআনার সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে৷

১৯৬৩সালের ৩১ অগস্টের সদ্যজাতটি ধীরে ধীরে ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্রের মহীরূহ-তে পরিণত হয়েছিলেন৷ দুই দশকের কর্মজীবনে বারোটি জাতীয় পুরস্কারের পাশাপাশি কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত সত্যজিৎ রায়ের অনুরাগী এই ক্রিয়েটিভ আর্টিস্ট ২০১৩ সালের ৩০ মে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মর-পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন৷

রাই কিশোরী কৃষ্ণকলির কথায়, ‘‘ঋতুদা মানে জুঁই ফুলের সুবাস৷ যিনি সবার হৃদয়ে প্রস্ফুটিত কোমলের মতো বিরাজ করেন৷ ঋতুদার অভিনয়, সাবলীল নৃত্য, দ্বৈতসত্ত্বায় সবার সামনে সাবলীল ভঙ্গিতে কথোপকথন আজও আপামর বাঙালীর হৃদয় জুড়ে আছে৷ তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতেই আমাদের এই উদ্যোগ৷’’
শিল্পীর তো মৃত্যু হয় না৷ তিনি বেঁচে থাকেন তাঁর সৃষ্টিকলার মাধ্যমেই৷ ঋতুপর্ণ তেমনই এক শিল্পী৷ যিন শিল্পকলার মাধ্যমে বারেবারে ফুটে ওঠেন দর্শকের মননে৷