স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রশ্নে প্রশাসন উদাসীন৷ এদিকে আক্রান্তদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে বলা হচ্ছে- ‘শয্যা নেই৷ ভর্তি নেওয়া যাবে না৷’ এরই প্রতিবাদে শনিবার কলকাতা পুরনিগমের ময়লা ফেলার গাড়িতে আগুন লাগিয়ে পথ অবরোধ করলেন গার্ডেনরিচের বাগদিপাড়া-পাহাড়পুর এলাকার বাসিন্দারা৷

অন্যদিকে এদিনই কলকাতার উপকন্ঠে ফের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের৷ জেলার হাসপাতালগুলিতেও উপচে পড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা৷ ফলে কলকাতা থেকে জেলা সবর্ত্রই ডেঙ্গু ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই ধৈর্য্যের সীমা ছাড়াচ্ছে৷ স্বাস্থ্য দফতরের হিসেবে ডেঙ্গুতে রাজ্যে মৃতের সংখ্যা ৫৬জন৷ আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার৷ যদিও বেসরকারি মতে, মৃতের সংখ্যা শতাধিক৷ আক্রান্ত ৫০ হাজারেরও বেশি৷

এদিন কলকাতায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে পূর্ণিমা বিশ্বাস ও সীমা কাহারের৷ টালিগঞ্জের বাসিন্দা পূর্ণিমাদেবী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন৷ বেশ কয়েকদিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে ভুগছিলেন তিনি৷ এদিন বাঙ্গুর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়৷ অন্যদিকে দেগঙ্গার বাসিন্দা সীমা কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এদিন মারা যায়।

গার্ডেনরিচের বাগদিপাড়া পাহাড়পুর এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ কার্যত মহামারির আকার নিয়েছে৷ প্রতি ঘরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত৷ ইতিমধ্যে ডেঙ্গুর ছোবলে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে৷ এরপরও প্রশাসন উদাসীন৷ হাসপাতালে গেলে সেখানেও ভর্তি নিচ্ছে না৷ বলা হচ্ছে- শয্যা নেই৷ বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় নিয়মিত সাফাই অবিযান হয় না৷ এমনকি মাঝে মধ্যে সাফাই অভিযান হলেও রীতিমতো বাসিন্দাদের ঘর পিছু টাকা নেওয়া হয়৷

এরই প্রতিবাদে এদিন কলকাতা পুর নিগমের ময়লা ফেলার একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেন বাসিন্দারা৷ সংশ্লিষ্ট রাস্তায় পথ অবরোধ শুরু করেন তাঁরা৷ পরে পুলিশি আশ্বাসে অবরোধ ওঠে৷ যদিও স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, স্বাস্থ্য ভবনে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে৷ সেখান থেকে রাজ্যের প্রতিটি জেলার বিস্তারিত খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে৷ একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে৷ তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গু যেভাবে মহামারির আকার ধারণ করছে তাতে স্বাস্থ্য দফতর এবিষয়ে এখনই তৎপর না হলে মানুষের ক্ষোভ বিদ্রোহে পরিণত হতে পারে৷ সেক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রসঙ্গও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷