নয়াদিল্লি: উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে চরম হিংসার ছবি ছড়িয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেইসব ছবিরই একটি ব্যবহার করছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট। দিল্লি হিংসার একটি ছবি দিয়ে পোস্টার তৈরি করে মুসলিমদের এক হয়ে একই উদ্দেশে কাজ করার ডাক দেওয়া হয়েছে, এমনতাই জানা গিয়েছে আমেরিকাস্থিত সাইট ইনট্যালিজেন্স গ্রুপ যারা এই বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী সংস্থার কার্যকলাপে ট্র্যাক করে।

SITE জানাচ্ছে, ভারতীয় মহাদেশেরই কোনও আইএস-অ্যালাইনড মিডিয়া ইউনিটের তরফে এই ডাক দেওয়া হয়েছে, এমন তথ্যই তুলে ধরেছে জাতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস

আসল ছবিটি তুলেছেন ভারতে কর্মরত রয়টার্স সংবাদসংস্থার ফোটোগ্রাফারের, যার শিরোনাম, “দিল্লিতে একজন মুসলিম ব্যাক্তি নাগরিকত্ব আইনের সমর্থকদের হাতে মার খাচ্ছেন”।

এটা প্রথমবার নয় যেখানে ইসলামিক স্টেট একটি আঞ্চলিক দ্বন্দ্বকে হাতিয়ার করে মুসলিমদের একজায়গায় করার বার্তা দিচ্ছে। এর আগেও একাধিকবার ভারতে মুসলিমদের উপর অত্যাচারের ছবি বিভিন্ন ভিডিও, ছবিকে ব্যবহার করে মুসলিমদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যদিও ভারত সরকার সদর্থকভাবে জানিয়েছে, ভারতের মুসলিমরা ইসলামিক স্টেটের আদর্শকে পরিহার করেছে।

 

 

রবিবার থেকেই উত্তপ্ত দেশের রাজধানী, একদিন পরে যা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। যারা নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করছিলেন তাঁদেরকে লাঠি, ধারালো অস্ত্র এবং পিস্তল নিয়ে হিংসা ছড়াতে দেখা গিয়েছে। নিহত হয়েছেন পুলিশ, অনেকে আহত।

উত্তরপূর্ব দিল্লিতে এই পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায় যে পুড়িয়ে দেওয়া হ্য দোকানপাট, একাধিক গাড়ি। স্থানীয় এলাকা নিমেশেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

দিল্লির ঘটনায় উঠে আসে এক আপ নেতার নাম। তাহির হুসেন নামে ওই নেতার বিরুদ্ধে ওঠে ঘোরতর অভিযোগ। আইবি অফিসার খুনের ঘটনায় তার নাম উঠে আসে। আসে হুসেনের নাম সামনেই আসতেই কার্যত দিল্লির রাজনীতি তোলপাড় হতে শুরু করে। জানা যাচ্ছে, এরপরেই অভিযুক্ত তাহির হুসেনকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন আম আদমি সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে এই ঘটনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালেই পেট্রোল বোমা ও পাথর ভর্তি প্যাকেট পাওয়া যায় তাহিরের বাড়ি থেকে। এমনকি একটি ভিডিও দেখা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, যেখানে ছাদে হাঁটছেন তাহির আর তাঁর সঙ্গীরা পাথর ছুঁড়ছে। এরপর ওই কেমিক্যাল ভর্তি প্যাকেট পাওয়া যায়। সংবাদমাধ্যমে দেখানো হয়েছে সেই ভিডিও।