নয়াদিল্লি: একসময় সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছিলেন, ‘কখনই প্রথমে আমাদের দিক থেকে বুলেট চলবে না। কিন্তু যদি সীমান্তের ওপার থেকে একটাও বুলেট আসে, তখন আমাদের জওয়ানেরা জবাব দেওয়ার সময় বুলেটের কোনও হিসেব করবে না।’ একের পর এক পাক সেনাকে খতম করার ঘটনায় দেখা গিয়েছে, ঠিক সেভাবেই জবাব দিয়েছে সীমান্তে মোতায়েন থাকা সেনাবাহিনীর জওয়ানেরা। আর সেইজন্যই ২৮ জন শহিদের মৃত্যুর মূল্য চোকাতে খতম করা হয়েছে ১৩৮ পাক সেনাকে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রক সূত্রের খবর, পাকিস্তানি আর্মি সেনাদের এই মৃত্যুর কোনোদিনই মেনে নেয়নি। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তারা এই মৃত্যুগুলিকে সাধারণ মানুষের মৃত্যু হিসেবে দেখিয়েছে। এটা নতুন নয়। নিজেদের দেশের সেনার মৃত্যুর কথা অস্বীকার করাই পাক সেনার পলিসি। এমনকি কার্গিল যুদ্ধের সময় ভারত প্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও তার সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করেনি।

গত ২৫ ডিসেম্বর যখন আমরই কমান্ডো সীমান্ত পার করে ‘ক্রস বর্ডার রেড’ চালিয়ে তিন পাক সেনাকে খতম করে ফিরে আসে, তখন প্রথমে ট্যুইটারে সেই সেনাদের মৃত্যুর কথা পোস্ট করে পাকিস্তান। কিন্তু পরক্ষণেই সেই ট্যুইট ডিলিট করে দেয়। এমনকি পাকসেনার মুখপাত্রও সেই ঘটনার কথা অস্বীকার করে।

পাকিস্তানের সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘনের মুখে জবাব দিতে সম্প্রতি কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতীয় সেনা। গত এক বছরে কোনও ছাড় দেয়নি পাক সেনা। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তানে মোট ১৩৮ সেনার মৃত্যু হয়েছে, ১৫৫ জন আহত হয়েছে। ভারতীয় সেনার মুখপাত্র কর্নেল আমন আনন্দ জানিয়েছেন, ভারত পাকিস্তানের গুলির মুখে যথাযোগ্য জবাব দিয়ে যাচ্ছে, আর এটাই জারি রাখবে।

২০১৭ তে পাকিস্তান ৮৬০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। ২০১৬ তে যে সংখ্যাটা ছিল ২২১।