স্টাফ রিপোর্টার, শান্তিনিকেতন: বসন্ত উৎসব ঘিরে বেনজির সিদ্ধান্ত নিলেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এবারের বসন্ত উৎসব কেবলমাত্র বিশ্বভারতীর পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ বাইরের কেউ আর শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসবে যোগ দিতে পারবেন না।সেই সঙ্গে উৎসবের দিনও বদলে গেল। দোল ১০ মার্চ। আর বসন্ত উৎসব হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি।

শান্তিনিকেতনের অন্যতম আকর্ষণ বসন্তোৎসব৷ ১৯২৫ নাগাদ বিশ্বভারতীতে শুরু হয় বসন্ত উৎসব। উৎসবের মূল সুর যেন তখন থেকেই বেঁধে দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। তখনই দেশ–‌বিদেশের নানা অতিথির পাশাপাশি উৎসবে সামিল করা হত আদিবাসীদেরও। সেই প্রথা আজও চলেছে।

ফাল্গুনী পূর্ণিমা অর্থাৎ দোলপূর্ণিমার দিনই বসন্তোৎসবের আয়োজন করা হয়। আগের রাতে বৈতালিক হয়। দোলের দিন সকালে ‘ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল’ গানটির মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। রাস্তাঘাট রেঙে ওঠে আবিরে। সন্ধ্যায় গৌরপ্রাঙ্গনে রবীন্দ্রনাথের কোনো নাটক অভিনীত হয়।

প্রতি বছরই বহু পর্যটক বসন্ত উৎসবে শান্তিনিকেতনে যান। ইদানীংকালে সেই ভিড় দিন দিন বাড়ছে। গত বছরের বসন্তোৎসবে ভিড়ের চাপে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। সূত্রের খবর, এই ঘটনার পর সমালোচনার মুখে পড়ে বিশ্বভারতী। মনে করা হচ্ছে তার প্রেক্ষিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে অনেক আগেই অবশ্য অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী জানিয়েছিলেন, দোল পূর্ণিমার দিন নয়, তার আগে বা পরের কোনও পূর্ণিমার দিন হতে পারে ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব। সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ১০ মার্চ দোল হলেও বসন্ত উৎসব হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ প্রায় ২০ দিন আগে। যে খবর বাইরে আসা মাত্র শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক। যদিও সংবাদমাধ্যমকে উপাচার্য এই বিষয় নিয়ে কিছুই বলতে চাননি।