স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাণাঘাটে সন্ন্যাসিনী ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তদের শাস্তি ঘোষণা হবে আগামী ৭ নভেম্বর৷ সোমবার কলকাতার বিচারভবনে বিশেষ আদালত এই ঘোষণা করে৷ এদিনই ওই মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হল৷ আদালত সূত্রে খবর, শাস্তি ঘোষণার আগে অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করবে আদালত৷ পরে শাস্তি ঘোষণা হবে৷ প্রসঙ্গত, এই মামলায় সাতজন অভিযুক্তের মধ্যে ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি৷ তাদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে৷ অন্য অভিযুক্ত এখনও পলাতক৷

আরও পড়ুন: সন্ন্যাসিনীকে দেখতে হাসপাতালে অম্বিকেশ, মৌসুমি

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১৪ মার্চ রাতে রাণাঘাট স্টেশন সংলগ্ন একটি চার্চে ডাকাতি করতে ঢুকে এক বৃদ্ধ সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে৷ সেই মামলায় প্রথমে তদন্ত শুরু করে রাণাঘাট থানার পুলিশ৷ ধর্ষণ, ডাকাতি, খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা শুরু হয়৷ তবে পরে তদন্তভার সিআইডি’র হাতে তুলে দেয় রাজ্য সরকার৷ মিলন সরকার, ওহিদুল ইসলাম, মহম্মদ সেলিম শেখ, নজরুল শেখ, খালেদার রহমান এবং গোপাল সরকার নামে ছয় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে সিআইডি৷ তদন্তকারীরা জানায়, নজরুলই এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত৷ সেই ওই সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণ করেছিল৷ তবে ঘটনার পরে সে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়৷ সেখানে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ফের ভারতে প্রবেশ করে৷ গোপনসূত্রে সেই খবর পেয়ে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে নজরুলকে গ্রেফতার করে সিআইডি৷

আরও পড়ুন: সন্ন্যাসিনী ধর্ষণ খ্রিস্টীয় সংস্কৃতি: বিস্ফোরক ভিএইচপি

প্রাথমিকভাবে রাণাঘাট আদালতে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল৷ তবে ধর্ষণ-কাণ্ডের পরে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন ওই সন্নাসিনী নিরাপত্তার অভাব বোধ করে দিল্লি চলে যান৷ ফলে মামলার বিচারে সমস্যা হয়৷ তারপর ওই মামলা রাণাঘাট থেকে কলকাতায় সরানোর জন্য কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেন আক্রান্ত বৃদ্ধা৷ ২০১৬ সালে দায়ের করা ওই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, মামলার বিচার প্রক্রিয়া কলকাতায় বিচারভবনে বিচার শুরু করার জন্য৷ সেই আদালতেই পরবর্তীতে টানা বিচারপ্রক্রিয়া চলে৷ অবশেষে আড়াই বছরের মধ্যেই এই মামলায় রায় ঘোষণা করতে চলেছে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালত৷