রাঁচি : উত্তরপ্রদেশে ভয়ঙ্কর ছবি। পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে একই ট্রাকে প্লাস্টিকে মুড়ে পাঠানো হচ্ছে মৃতদেহ। এমন ছবি দেখে শিউরে উঠেছে দেশ। উত্তরপ্রদেশ থেকে এভাবেই ঝাড়খণ্ডে পাঠাবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে আহত পরিযায়ী শ্রমিকদের। গোটা ঘটনাকে রীতিমত অমানবিক বলে ব্যাখ্যা করেছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। মৃতদেহগুলিকে কীভাবে জীবিত শ্রমিকদের সাথে পাঠানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

১৬ই মে রাত সাড়ে ৩ টে নাগাদ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে উত্তরপ্রদেশের আউরাইয়া এলাকায়। ট্রাকের ধাক্কায় মৃত্যু হয় ২৪ পরিযায়ী শ্রমিকের। ২৪ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হন আরও ১৫-২০ জন। তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই ট্রাকে করে আউরিয়াতে মৃত শ্রমিকদের দেহই পাঠানো হয় বলে খবর। সেই দুর্ঘটনার আহতদেরও ওই একই ট্রাকে নিজের রাজ্য ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ট্যুইট করেন উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ এভাবে অমানবিকতার পরিচয় দেবেন না। পরিযায়ী আহত শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত পরিবহণের ব্যবস্থা করুন। বোকারোতে তাদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার সব দায়িত্ব আমাদের। কিন্তু প্রাথমিকভাবে পরিবহণের সুষ্ঠু ব্যবস্থা আপনাদের করতে হবে।

শনিবার রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ আউরাইয়াতে যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে তাতে শ্রমিকেরা রাজস্থান থেকে আসছিলেন। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, একটি ট্রাকে করে যাচ্ছিলেন ওই পরিযায়ী শ্রমিকেরা। কিন্তু অন্য একটি ট্রাক এসে ধাক্কা দেয় পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রাকে।

আউরাইয়ার ডিএম আভিষেক সিং জানান, রাত সাড়ে ৩ টে নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন ১৫ থেকে ২০ জন। শ্রমিকদের বেশিরভাগই বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

একদিন পরে মৃতদেহগুলিকে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করে উত্তরপ্রদেশ সরকার। ট্রাকগুলি সেই মত বোকারো ও পুরুলিয়ার দিকে রওনা দেয়। তবে আহত পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গেই মৃতদেহগুলি পাঠানোয় ক্ষুব্ধ হয় ঝাড়খন্ড। তবে হেমন্ত সোরেনের ট্যুইট পাওয়ার পরেই ব্যবস্থা নেয় উত্তরপ্রদেশ। প্রয়াগরাজ হাইওয়ের ওপর ট্রাক থামিয়ে মৃতদেহগুলিকে অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা